বাংলাদেশ , বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
সর্বাধিক পঠিত

বাঁশখালীর বেড়িবাঁধ নির্মাণ হবে, জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ

চট্টগ্রামের বাঁশখালীর মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি বাঁশখালীর বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বাঁশখালীর বেড়িবাঁধ নির্মাণ সরকারের মূল পরিকল্পনার একটি অংশ। এ অঞ্চলের উন্নয়ন কার্যক্রম কেউ ঠেকাতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বাহারছড়া সমুদ্রসৈকত এলাকায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসন কর্মসূচি ও জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনের সময় বিএনপি জনগণকে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সরকার গঠনের পর সেগুলো বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। জনগণের জীবনমান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারী ও কৃষকদের স্বাবলম্বী করা এবং দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সরকার পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে।

তিনি জানান, নারীদের স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সারাদেশে ৪১ লাখ মায়ের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে বাঁশখালী উপজেলায় চলতি বছর ১০ থেকে ১১ হাজার মায়ের হাতে এ কার্ড দেওয়া হবে।

নারীদের পাশাপাশি পুরুষ ও কৃষকদের স্বাবলম্বী করার উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড এবং লবণচাষিদের জন্য বিশেষ কার্ড দেওয়ার কথা জানান তিনি। একই সঙ্গে বাঁশখালীর লবণশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে লবণের ন্যায্যমূল্য নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান।

চট্টগ্রামকে শিল্পনগরী হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। সমুদ্রসম্পদ কাজে লাগিয়ে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিল্পকারখানা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন।

স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দেশের প্রত্যেক উপজেলার হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি। দেশের শান্তিশৃঙ্খলা নষ্ট হয় এমন কোনো কর্মকাণ্ডে কান না দিতে এবং বিভ্রান্তি এড়িয়ে চলার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

বাঁশখালীর বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি সরকারের মূল পরিকল্পনার অংশ। চট্টগ্রাম অঞ্চলের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মাধ্যমে এ অঞ্চলের উন্নয়ন আরও এগিয়ে নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বাঁশখালীর ১০০ পরিবারকে নতুন ঘরের চাবি হস্তান্তরের মাধ্যমে পুনর্বাসন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের পরিস্থিতির খোঁজ নেন। পরে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণ ও নগদ অর্থসহায়তা দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে বাঁশখালী ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। সড়কের দুই পাশে বিপুলসংখ্যক মানুষ দাঁড়িয়ে তাকে স্বাগত জানান।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারের মহেশখালীতে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন মেগা প্রকল্প পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে বন্দর উন্নয়ন, পরিবেশ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেন।

উল্লেখ্য, গত ৭ জুলাই থেকে ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বাঁশখালীসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন নিচু এলাকা প্লাবিত হয়। এতে ঘরবাড়ি, পুকুর, জলাশয় ও মৎস্য খামারের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন ও অবকাঠামো পুনর্গঠনে সরকারি উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক সম্পর্কিত তথ্য
আপডেটের সময় : ০৭:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬
২৫ সময় দৃশ্য

বাঁশখালীর বেড়িবাঁধ নির্মাণ হবে, জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আপডেটের সময় : ০৭:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ

চট্টগ্রামের বাঁশখালীর মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি বাঁশখালীর বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বাঁশখালীর বেড়িবাঁধ নির্মাণ সরকারের মূল পরিকল্পনার একটি অংশ। এ অঞ্চলের উন্নয়ন কার্যক্রম কেউ ঠেকাতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বাহারছড়া সমুদ্রসৈকত এলাকায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসন কর্মসূচি ও জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনের সময় বিএনপি জনগণকে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সরকার গঠনের পর সেগুলো বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। জনগণের জীবনমান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারী ও কৃষকদের স্বাবলম্বী করা এবং দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সরকার পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে।

তিনি জানান, নারীদের স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সারাদেশে ৪১ লাখ মায়ের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে বাঁশখালী উপজেলায় চলতি বছর ১০ থেকে ১১ হাজার মায়ের হাতে এ কার্ড দেওয়া হবে।

নারীদের পাশাপাশি পুরুষ ও কৃষকদের স্বাবলম্বী করার উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড এবং লবণচাষিদের জন্য বিশেষ কার্ড দেওয়ার কথা জানান তিনি। একই সঙ্গে বাঁশখালীর লবণশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে লবণের ন্যায্যমূল্য নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান।

চট্টগ্রামকে শিল্পনগরী হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। সমুদ্রসম্পদ কাজে লাগিয়ে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিল্পকারখানা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন।

স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দেশের প্রত্যেক উপজেলার হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি। দেশের শান্তিশৃঙ্খলা নষ্ট হয় এমন কোনো কর্মকাণ্ডে কান না দিতে এবং বিভ্রান্তি এড়িয়ে চলার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

বাঁশখালীর বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি সরকারের মূল পরিকল্পনার অংশ। চট্টগ্রাম অঞ্চলের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মাধ্যমে এ অঞ্চলের উন্নয়ন আরও এগিয়ে নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বাঁশখালীর ১০০ পরিবারকে নতুন ঘরের চাবি হস্তান্তরের মাধ্যমে পুনর্বাসন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের পরিস্থিতির খোঁজ নেন। পরে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণ ও নগদ অর্থসহায়তা দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে বাঁশখালী ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। সড়কের দুই পাশে বিপুলসংখ্যক মানুষ দাঁড়িয়ে তাকে স্বাগত জানান।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারের মহেশখালীতে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন মেগা প্রকল্প পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে বন্দর উন্নয়ন, পরিবেশ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেন।

উল্লেখ্য, গত ৭ জুলাই থেকে ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বাঁশখালীসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন নিচু এলাকা প্লাবিত হয়। এতে ঘরবাড়ি, পুকুর, জলাশয় ও মৎস্য খামারের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন ও অবকাঠামো পুনর্গঠনে সরকারি উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।