কালিহাতীতে নৈতিক শিক্ষা, মাদক ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে মতবিনিময় সভা

শরিফুল ইসলাম, টাঙ্গাইল:
নৈতিক শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং মাদক ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধ, মানবিকতা ও দায়িত্ববোধ জাগ্রত করার পাশাপাশি মাদক ও বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
রোববার সকাল ১০টায় কালিহাতী উপজেলার নারান্দিয়া টেনুরাম-ক্ষেত্রনাথ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় (স্কুল অ্যান্ড কলেজ) প্রাঙ্গণে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ৪ নম্বর নারান্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও কালিহাতী উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. মোহর আলী।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারজানা আক্তার। প্রধান আলোচক ছিলেন কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ কাইয়ুম খান সিদ্দিকী। বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এ. কে. এম. আমির হোসেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লুৎফর রহমান মতিন ডিগ্রি কলেজের সভাপতি জাহিদুর রহমান, স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান মতিনের ছেলে তৌহিদুর রহমান, কালিহাতী উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শরিফ মোল্লা, নারান্দিয়া টেনুরাম-ক্ষেত্রনাথ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি মো. লুৎফর রহমান চৌধুরী, অধ্যক্ষ মো. গোলাম মোস্তফা, ৪ নম্বর নারান্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মো. আজহার আলী প্রামাণিক এবং নারান্দিয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি বাতেন।
বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। কালিহাতীতে নৈতিক শিক্ষা জোরদার করা গেলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানবিকতা, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধ আরও বাড়বে।
সভায় বক্তারা মাদকের ভয়াবহতা তুলে ধরে বলেন, মাদক তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করে। তাই শিক্ষার্থীদের মাদক থেকে দূরে রাখতে অভিভাবক, শিক্ষক, প্রশাসন ও স্থানীয় জনগণকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারজানা আক্তার বলেন, নৈতিকতা, মানবিকতা ও ভালোবাসার মাধ্যমে একটি সুন্দর সমাজ ও দেশ গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি মাদককে না বলার পাশাপাশি প্রত্যেক অভিভাবককে সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও এগিয়ে আসতে হবে। মাদক সেবন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের উদ্দেশে তিনি কঠোর বার্তা দিয়ে বলেন, “হয় কালিহাতী ছাড়ুন, তা না হলে মাদক ছাড়ুন।”
প্রধান আলোচক ওসি কাইয়ুম খান সিদ্দিকী বলেন, মাদক ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থার পাশাপাশি জনসচেতনতা তৈরিতেও কাজ করছে। কোথাও মাদক বিক্রি বা বাল্যবিবাহের ঘটনা ঘটলে দ্রুত প্রশাসনকে জানানোর জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।
বক্তারা বলেন, বাল্যবিবাহ একটি সামাজিক ব্যাধি। অল্প বয়সে বিয়ে হলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি তাদের স্বাভাবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। তাই বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে।
সভায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় মাদক ও বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।







