কবিরহাটে রাস্তার কার্পেটিং উঠছে হাতের টানেই, নিম্নমানের কাজের অভিযোগ

মোঃ বেল্লাল হোসাইন নাঈম,স্টাফ রিপোর্টার
নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় রাস্তার কার্পেটিং কাজের মান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী এবং প্রয়োজনের তুলনায় কম বিটুমিন ব্যবহার করায় কাজ শেষ হওয়ার পরদিনই হাতের টানেই সড়কের কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং কবিরহাট সড়ক সংস্কার প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের নলুয়া গ্রামের কালাম হুজুরের দোকান থেকে ইতালি মার্কেট পর্যন্ত সড়ক পরিদর্শন করে দেখা যায়, বিভিন্ন স্থানে নতুন কার্পেটিং সহজেই উঠে আসছে। স্থানীয়দের দাবি, এই সড়ক সংস্কারে নিম্নমানের ইটের খোয়া, পাথর ও বিটুমিন ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে কাজ শেষ হওয়ার পরই রাস্তার টেকসই মান নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় ছাত্রদল নেতা আব্দুল হান্নান হৃদয় বলেন, কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ছিল। বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে আড়াই কিলোমিটার সড়কের সংস্কারকাজের দায়িত্ব পান ঠিকাদার মো. চাষী। অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত সিডিউল অনুসরণ না করে দ্রুত কাজ শেষ করা হয়েছে। গত ২৫ জুন অধিকাংশ কার্পেটিংয়ের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পরদিনই স্থানীয়রা হাত দিয়ে টানলে রাস্তার কার্পেটিং উঠে আসে। সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. সাজু বলেন, সরকার জনগণের সুবিধার জন্য কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে রাস্তা নির্মাণ করছে। কিন্তু দায়িত্বে থাকা কিছু অসাধু ব্যক্তি ও ঠিকাদারের অনিয়মের কারণে সেই অর্থের সঠিক ব্যবহার হচ্ছে না। তিনি দাবি করেন, যেখানে হাত দিয়েই রাস্তার কার্পেটিং উঠে যায়, সেখানে ভারী যানবাহন চলাচল করলে সড়ক দ্রুত নষ্ট হয়ে যাবে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ঠিকাদার মো. চাষীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে কবিরহাট উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইসলাম হোসেন বলেন, স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি কয়েকবার কাজ পরিদর্শন করেছেন। তার দাবি, কিছু উৎসুক ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে কার্পেটিং তুলে ফেলেছেন। তিনি আরও বলেন, প্রকল্পের সিডিউল বা অন্যান্য তথ্য জানতে চাইলে তথ্য অধিকার আইনের আওতায় আবেদন করতে হবে।
অন্যদিকে নোয়াখালী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মাহফুজুল হোসাইন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কোনো সিন্ডিকেটের বিষয় নেই। কোথাও কাজের গাফিলতি প্রমাণিত হলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, কবিরহাট সড়ক সংস্কার প্রকল্পের কাজ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে নতুন করে মানসম্মতভাবে সড়ক সংস্কার করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।








