বাংলাদেশ , বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
সর্বাধিক পঠিত

কালিয়াকৈরে জলাবদ্ধতায় ৪৮ ঘণ্টা পরও পানিবন্দি হাজারো পরিবার

গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌর এলাকায় টানা বৃষ্টির পর সৃষ্ট কালিয়াকৈরে জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি। বৃষ্টিপাতের ৪৮ ঘণ্টা পার হলেও পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে রয়েছে। এতে অন্তত ৫০ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অনেক পানিবন্দি পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছে।

বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, কালিয়াকৈর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মাটিয়া কলোনি, হাজী বাড়ি, হরিণহাটি, বিশ্বাসপাড়া, পল্লী বিদ্যুৎ এলাকা, দিঘিরপাড় এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ডাইনকিনি, হরতিকতলা, আমতলা, বাদশা হাউজ, মাইওয়ান মোড় ও চন্দ্রাসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় পানি জমে আছে। পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ড্রেন ও নালাগুলো দীর্ঘদিন ধরে অপরিষ্কার ও অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে। ফলে বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে পারছে না। অনেক বাড়ির নিচতলা পানিতে তলিয়ে গেছে। বাসিন্দারা ঘরের আসবাবপত্র, ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র রক্ষা করতে হিমশিম খাচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা রেদুয়ান হাসান বলেন, “গতকাল সকাল থেকে ঘর পানিতে ডুবে আছে। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছি। এখনো ঘরে ফিরতে পারিনি। কখন পানি কমবে, তা জানি না।”

মুদি দোকানদার ওসমান মিয়া বলেন, “দোকানের সব মালামাল পানিতে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ঋণ নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলাম। এখন সব হারানোর উপক্রম।”

গৃহবধূ রোজি আক্তার জানান, “ঘরের ফ্রিজ, টেলিভিশন ও অন্যান্য আসবাবপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। ঘরের ভেতরে সাপ ও ব্যাঙ ঢুকে পড়েছে। পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে আছি।”

এদিকে জলাবদ্ধতার কারণে বিশুদ্ধ পানির সংকটও দেখা দিয়েছে। অনেক সাবমারসিবল পাম্প ও টিউবওয়েল পানির নিচে চলে যাওয়ায় মানুষ দূর-দূরান্ত থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করছেন। পাশাপাশি কিছু এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় রান্নাবান্নায়ও সমস্যা হচ্ছে।

কালিয়াকৈর পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এইচ এম ফখরুল হোসাইন বলেন, “পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন পরিষ্কার ও খাল খননের কাজ চলমান রয়েছে। অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে ড্রেনগুলোর ধারণক্ষমতা অতিক্রম করেছে। পানি নেমে গেলে স্থায়ী সমাধানের জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

স্থানীয়দের দাবি, ভবিষ্যতে কালিয়াকৈরে জলাবদ্ধতা রোধে ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, খাল পুনরুদ্ধার এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় প্রতি বর্ষায় হাজার হাজার পানিবন্দি পরিবার একই ধরনের দুর্ভোগের শিকার হবে।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক সম্পর্কিত তথ্য
আপডেটের সময় : ০৬:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
২৯ সময় দৃশ্য

কালিয়াকৈরে জলাবদ্ধতায় ৪৮ ঘণ্টা পরও পানিবন্দি হাজারো পরিবার

আপডেটের সময় : ০৬:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌর এলাকায় টানা বৃষ্টির পর সৃষ্ট কালিয়াকৈরে জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি। বৃষ্টিপাতের ৪৮ ঘণ্টা পার হলেও পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে রয়েছে। এতে অন্তত ৫০ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অনেক পানিবন্দি পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছে।

বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, কালিয়াকৈর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মাটিয়া কলোনি, হাজী বাড়ি, হরিণহাটি, বিশ্বাসপাড়া, পল্লী বিদ্যুৎ এলাকা, দিঘিরপাড় এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ডাইনকিনি, হরতিকতলা, আমতলা, বাদশা হাউজ, মাইওয়ান মোড় ও চন্দ্রাসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় পানি জমে আছে। পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ড্রেন ও নালাগুলো দীর্ঘদিন ধরে অপরিষ্কার ও অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে। ফলে বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে পারছে না। অনেক বাড়ির নিচতলা পানিতে তলিয়ে গেছে। বাসিন্দারা ঘরের আসবাবপত্র, ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র রক্ষা করতে হিমশিম খাচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা রেদুয়ান হাসান বলেন, “গতকাল সকাল থেকে ঘর পানিতে ডুবে আছে। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছি। এখনো ঘরে ফিরতে পারিনি। কখন পানি কমবে, তা জানি না।”

মুদি দোকানদার ওসমান মিয়া বলেন, “দোকানের সব মালামাল পানিতে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ঋণ নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলাম। এখন সব হারানোর উপক্রম।”

গৃহবধূ রোজি আক্তার জানান, “ঘরের ফ্রিজ, টেলিভিশন ও অন্যান্য আসবাবপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। ঘরের ভেতরে সাপ ও ব্যাঙ ঢুকে পড়েছে। পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে আছি।”

এদিকে জলাবদ্ধতার কারণে বিশুদ্ধ পানির সংকটও দেখা দিয়েছে। অনেক সাবমারসিবল পাম্প ও টিউবওয়েল পানির নিচে চলে যাওয়ায় মানুষ দূর-দূরান্ত থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করছেন। পাশাপাশি কিছু এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় রান্নাবান্নায়ও সমস্যা হচ্ছে।

কালিয়াকৈর পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এইচ এম ফখরুল হোসাইন বলেন, “পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন পরিষ্কার ও খাল খননের কাজ চলমান রয়েছে। অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে ড্রেনগুলোর ধারণক্ষমতা অতিক্রম করেছে। পানি নেমে গেলে স্থায়ী সমাধানের জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

স্থানীয়দের দাবি, ভবিষ্যতে কালিয়াকৈরে জলাবদ্ধতা রোধে ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, খাল পুনরুদ্ধার এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় প্রতি বর্ষায় হাজার হাজার পানিবন্দি পরিবার একই ধরনের দুর্ভোগের শিকার হবে।