গফরগাঁও সরকারি খাল দখল: অবৈধ মাছের খামারের অভিযোগে তোলপাড়

মোঃ এনামুল হক, স্টাফ রিপোর্টার
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে সরকারি খাল দখল করে অবৈধ মাছের খামার তৈরির অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ছোট বারইহাটি গ্রামের বৌমরা (শুকলাইন) সরকারি খাল ভরাট করে এবং সড়কের অধিগ্রহণকৃত জমি কেটে বড় আকারের মাছের খামার নির্মাণের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এই ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী আবুল কাশেম ওরফে ‘ভেকু কাশেম’ এক্সকাভেটর ব্যবহার করে সরকারি খালের একটি অংশ ভরাট করেছেন। একই সঙ্গে গফরগাঁও-বরমী আঞ্চলিক সড়কের পাশে সরকারি জমি কেটে গভীর পুকুর তৈরি করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব কাজের ফলে গফরগাঁও সরকারি খাল দখল আরও বড় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বৌমরা বা শুকলাইন খালটি টাংগাব ইউনিয়নের বাশিয়া এলাকা থেকে শুরু হয়ে পাঁচাহার, দাওয়াদাইর, সাধুয়া ও ছোট বারইহাটি হয়ে চার্মুতা গ্রামের সুতিয়া নদীতে গিয়ে মিলেছে। কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ এই খাল বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানি সরিয়ে নেয়। আবার শুষ্ক মৌসুমে এই খালের পানির ওপর নির্ভর করেন স্থানীয় কৃষকরা।
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেলে বর্ষায় জলাবদ্ধতা বাড়বে। এতে কয়েকটি গ্রামের শত শত একর কৃষিজমি পানিতে ডুবে যেতে পারে। অন্যদিকে শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানি না থাকায় বোরো ধানসহ বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য লিয়াকত আলী অভিযোগ করেন, খালের প্রায় ২০০ ফুট অংশ ভরাট করা হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, পাশের একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির অংশও দখল করা হয়েছে।
স্থানীয় কৃষক খোকন শেখ বলেন, খাল বন্ধ হয়ে গেলে কৃষকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বেন। কারণ এই খালই এলাকার প্রধান পানি নিষ্কাশনের পথ এবং সেচের উৎস।
বীর মুক্তিযোদ্ধা এম. এ. মান্নান ও অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হুসেন আলীর দাবি, সড়কের খুব কাছে গভীর পুকুর খননের কারণে ভবিষ্যতে ভূমিধসের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এতে গফরগাঁও-বরমী আঞ্চলিক সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
তবে অভিযুক্ত আবুল কাশেম সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, তিনি কোনো সরকারি খাল বা সরকারি জমি দখল করেননি। তাঁর দাবি, নিজের জমিতেই মাটি ভরাট ও পুকুর খনন করা হয়েছে।
এদিকে অবৈধ মাছের খামার নির্মাণের অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসন ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। নিগুয়ারী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন জানান, অভিযোগ যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গফরগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এন. এম. আবদুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, সরকারি খাল ভরাট বা সড়কের জমি কেটে ব্যক্তিগত পুকুর তৈরির কোনো আইনগত সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাবেরী রায়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত শেষ করে সরকারি খাল উদ্ধার এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, খালটি উদ্ধার না হলে কৃষি, পরিবেশ এবং স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির মুখে পড়বে।








