চট্টগ্রামে গ্যাস সংকটে রান্না বন্ধ, দুর্ভোগে হাজারো নগরবাসী এখন

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রাম:
চট্টগ্রামে গ্যাস সংকট দিন দিন আরও তীব্র আকার ধারণ করছে। আবাসিক এলাকায় দিনের বেশিরভাগ সময় গ্যাস না থাকায় হাজারো পরিবার চরম দুর্ভোগে পড়েছে। অনেক বাসায় নিয়মিত রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে নগরবাসীর একটি বড় অংশ বাধ্য হয়ে রেস্তোরাঁর খাবারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে শিল্পকারখানা, ক্যাপটিভ বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং সিএনজি ফিলিং স্টেশনেও এর নেতিবাচক প্রভাব দেখা দিয়েছে।
কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) সূত্র জানিয়েছে, গত ২১ জুলাই মহেশখালীর এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) অগ্নিকাণ্ডের পর জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে চট্টগ্রামের গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায়।
নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বসবাসকারী মানুষ বলছেন, প্রতিদিন দীর্ঘ সময় গ্যাস না থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। সকালবেলার নাশতা তৈরি করা যাচ্ছে না। অনেক পরিবার শিশুদের নাশতা ছাড়াই স্কুলে পাঠাতে বাধ্য হচ্ছে। দুপুরের খাবার রান্না সম্ভব না হওয়ায় বাইরে থেকে খাবার কিনে আনতে হচ্ছে। রাতে গ্যাস এলেও চাপ এত কম থাকে যে রান্না শেষ করতে গভীর রাত হয়ে যায়।
জামালখান, আগ্রাবাদ ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে সকাল ১০টার পর গ্যাস থাকছে না। তবে ২ আগস্ট রবিবার সকাল ৭টার পর থেকেই গ্যাস সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। বিকেল ৩টার আগে গ্যাস ফেরেনি। সন্ধ্যার পরও পর্যাপ্ত চাপ পাওয়া যায়নি।
আসকার দিঘির পাড় এলাকার বাসিন্দারাও একই ধরনের সমস্যার কথা জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, রাত ১২টার আগে রান্না করা সম্ভব হয় না। তাই প্রায় প্রতিদিনই রেস্তোরাঁ থেকে খাবার কিনে আনতে হচ্ছে। এতে পরিবারের মাসিক ব্যয়ও বেড়ে গেছে।
আগ্রাবাদ, হালিশহর, পতেঙ্গা, চান্দগাঁও, পাঁচলাইশ, মুরাদপুর, বাকলিয়া, চকবাজার, বহদ্দারহাট, অক্সিজেন ও ষোলশহরসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় একই ধরনের সংকট চলছে। কোথাও দিনের বেশিরভাগ সময় গ্যাস থাকে না, আবার কোথাও গ্যাসের চাপ এত কম যে রান্না করা কঠিন হয়ে পড়ে।
এদিকে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় শিল্পকারখানা ও ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ উৎপাদনেও প্রভাব পড়েছে। অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয়েছে। অন্যদিকে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাস নিতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
কেজিডিসিএলের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিস্ট্রিবিউশন) রফিক খান জানান, গত ১০ দিন ধরে এই সংকট চলছে। ছুটির দিনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। শনিবার রাত থেকে গ্যাসের চাপ অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় চট্টগ্রামের প্রায় সব এলাকাতেই তীব্র সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে চট্টগ্রামে গ্যাস সংকট দ্রুত কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।








