বাংলাদেশ , বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
পুলিশের সোর্স পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ, গাজীপুরে সোহেলকে ঘিরে প্রশ্ন বিজয়নগরে ২২ মামলার আসামি ইকবাল খাঁ গ্রেফতার নাসিরনগরে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ, নেতৃত্বে এম এ হান্নান শিবপুরে উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন, শিক্ষার্থীদের ভালো মানুষ হওয়ার আহ্বান রাজশাহীতে বিজিবির অভিযানে ২৬ মূর্তি ও ১,৮১৮ প্রাচীন মুদ্রা উদ্ধার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির সভায় এমপি ইকরামুল বারী টিপু টাঙ্গাইলে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে গ্রামবাসীর মানববন্ধন মক্কায় ইন্দোনেশীয় নারী হাজিকে হয়রানির অভিযোগ, হোটেলকর্মী বরখাস্ত নাসিরনগরে কৃষক হাবিবুর হত্যা মামলায় দুই আসামি গ্রেপ্তার রাজশাহী মেডিকেল এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান
সর্বাধিক পঠিত
পুলিশের সোর্স পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ, গাজীপুরে সোহেলকে ঘিরে প্রশ্ন বিজয়নগরে ২২ মামলার আসামি ইকবাল খাঁ গ্রেফতার নাসিরনগরে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ, নেতৃত্বে এম এ হান্নান শিবপুরে উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন, শিক্ষার্থীদের ভালো মানুষ হওয়ার আহ্বান রাজশাহীতে বিজিবির অভিযানে ২৬ মূর্তি ও ১,৮১৮ প্রাচীন মুদ্রা উদ্ধার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির সভায় এমপি ইকরামুল বারী টিপু টাঙ্গাইলে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে গ্রামবাসীর মানববন্ধন মক্কায় ইন্দোনেশীয় নারী হাজিকে হয়রানির অভিযোগ, হোটেলকর্মী বরখাস্ত নাসিরনগরে কৃষক হাবিবুর হত্যা মামলায় দুই আসামি গ্রেপ্তার রাজশাহী মেডিকেল এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান

নাসিরনগরে সড়কের পাশে ময়লার স্তূপে বাড়ছে জনদুর্ভোগ

মোঃ সাইফুল ইসলাম, নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি:

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার বিভিন্ন সড়ক, সরকারি প্রতিষ্ঠানের আশপাশ এবং জনসাধারণের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও পথচারীরা। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সমস্যা এখন জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নাসিরনগরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যকর না থাকায় প্রতিদিন বাজার ও গৃহস্থালির বিপুল পরিমাণ বর্জ্য সড়কের পাশে ফেলে রাখা হচ্ছে। ফলে বিভিন্ন এলাকায় সড়কের পাশে ময়লার স্তূপ তৈরি হয়েছে। এসব বর্জ্য পচে দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশ দূষণও বাড়াচ্ছে।

উপজেলার একমাত্র সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যস্ততম সড়কের পাশেও বিশাল বর্জ্যের স্তূপ দেখা গেছে। এতে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। দুর্গন্ধের কারণে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের আশপাশের ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের ধারে ফেলে রাখা আবর্জনা থেকে ছড়িয়ে পড়া দুর্গন্ধে পথচারীদের নাক-মুখ চেপে চলাচল করতে হচ্ছে। দূরপাল্লার যানবাহনের যাত্রীদেরও একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় এই সমস্যা আরও প্রকট হয়েছে।

এলাকাবাসী জানান, ময়লার স্তূপ কমানোর জন্য মাঝে মাঝে সেখানে আগুন দেওয়া হয়। এতে ঘন কালো ধোঁয়া সৃষ্টি হয়ে আশপাশের এলাকা, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। ধোঁয়ার কারণে সড়কে যানবাহন চালকদের দৃষ্টিসীমা কমে যায়, যা বড় ধরনের সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করছে।

একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, “প্রতিদিন বাজারের সব ময়লা এনে রাস্তার পাশে ফেলা হচ্ছে। দুর্গন্ধে দোকানে বসা যায় না। অনেক ক্রেতাও আসতে চান না। আমরা দ্রুত স্থায়ী সমাধান চাই।”

পরিবেশ সচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্য ফেলা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এতে চর্মরোগ, শ্বাসকষ্ট এবং বিভিন্ন সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত বিজ্ঞানসম্মত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু করা এবং একটি স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন বা ল্যান্ডফিল নির্মাণ করা জরুরি।

এদিকে ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ অবিলম্বে সড়কের পাশ থেকে ময়লা অপসারণ এবং বিকল্প স্থানে বর্জ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। স্থানীয়দের আশা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে নাসিরনগরের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসবে।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক সম্পর্কিত তথ্য
আপডেটের সময় : ০৯:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
৪৪ সময় দৃশ্য

নাসিরনগরে সড়কের পাশে ময়লার স্তূপে বাড়ছে জনদুর্ভোগ

আপডেটের সময় : ০৯:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

মোঃ সাইফুল ইসলাম, নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি:

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার বিভিন্ন সড়ক, সরকারি প্রতিষ্ঠানের আশপাশ এবং জনসাধারণের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও পথচারীরা। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সমস্যা এখন জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নাসিরনগরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যকর না থাকায় প্রতিদিন বাজার ও গৃহস্থালির বিপুল পরিমাণ বর্জ্য সড়কের পাশে ফেলে রাখা হচ্ছে। ফলে বিভিন্ন এলাকায় সড়কের পাশে ময়লার স্তূপ তৈরি হয়েছে। এসব বর্জ্য পচে দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশ দূষণও বাড়াচ্ছে।

উপজেলার একমাত্র সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যস্ততম সড়কের পাশেও বিশাল বর্জ্যের স্তূপ দেখা গেছে। এতে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। দুর্গন্ধের কারণে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের আশপাশের ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের ধারে ফেলে রাখা আবর্জনা থেকে ছড়িয়ে পড়া দুর্গন্ধে পথচারীদের নাক-মুখ চেপে চলাচল করতে হচ্ছে। দূরপাল্লার যানবাহনের যাত্রীদেরও একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় এই সমস্যা আরও প্রকট হয়েছে।

এলাকাবাসী জানান, ময়লার স্তূপ কমানোর জন্য মাঝে মাঝে সেখানে আগুন দেওয়া হয়। এতে ঘন কালো ধোঁয়া সৃষ্টি হয়ে আশপাশের এলাকা, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। ধোঁয়ার কারণে সড়কে যানবাহন চালকদের দৃষ্টিসীমা কমে যায়, যা বড় ধরনের সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করছে।

একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, “প্রতিদিন বাজারের সব ময়লা এনে রাস্তার পাশে ফেলা হচ্ছে। দুর্গন্ধে দোকানে বসা যায় না। অনেক ক্রেতাও আসতে চান না। আমরা দ্রুত স্থায়ী সমাধান চাই।”

পরিবেশ সচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্য ফেলা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এতে চর্মরোগ, শ্বাসকষ্ট এবং বিভিন্ন সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত বিজ্ঞানসম্মত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু করা এবং একটি স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন বা ল্যান্ডফিল নির্মাণ করা জরুরি।

এদিকে ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ অবিলম্বে সড়কের পাশ থেকে ময়লা অপসারণ এবং বিকল্প স্থানে বর্জ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। স্থানীয়দের আশা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে নাসিরনগরের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসবে।