বাংলাদেশ , মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
পুলিশের সোর্স পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ, গাজীপুরে সোহেলকে ঘিরে প্রশ্ন বিজয়নগরে ২২ মামলার আসামি ইকবাল খাঁ গ্রেফতার নাসিরনগরে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ, নেতৃত্বে এম এ হান্নান শিবপুরে উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন, শিক্ষার্থীদের ভালো মানুষ হওয়ার আহ্বান রাজশাহীতে বিজিবির অভিযানে ২৬ মূর্তি ও ১,৮১৮ প্রাচীন মুদ্রা উদ্ধার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির সভায় এমপি ইকরামুল বারী টিপু টাঙ্গাইলে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে গ্রামবাসীর মানববন্ধন মক্কায় ইন্দোনেশীয় নারী হাজিকে হয়রানির অভিযোগ, হোটেলকর্মী বরখাস্ত নাসিরনগরে কৃষক হাবিবুর হত্যা মামলায় দুই আসামি গ্রেপ্তার রাজশাহী মেডিকেল এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান
সর্বাধিক পঠিত
পুলিশের সোর্স পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ, গাজীপুরে সোহেলকে ঘিরে প্রশ্ন বিজয়নগরে ২২ মামলার আসামি ইকবাল খাঁ গ্রেফতার নাসিরনগরে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ, নেতৃত্বে এম এ হান্নান শিবপুরে উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন, শিক্ষার্থীদের ভালো মানুষ হওয়ার আহ্বান রাজশাহীতে বিজিবির অভিযানে ২৬ মূর্তি ও ১,৮১৮ প্রাচীন মুদ্রা উদ্ধার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির সভায় এমপি ইকরামুল বারী টিপু টাঙ্গাইলে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে গ্রামবাসীর মানববন্ধন মক্কায় ইন্দোনেশীয় নারী হাজিকে হয়রানির অভিযোগ, হোটেলকর্মী বরখাস্ত নাসিরনগরে কৃষক হাবিবুর হত্যা মামলায় দুই আসামি গ্রেপ্তার রাজশাহী মেডিকেল এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান

পুলিশের সোর্স পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ, গাজীপুরে সোহেলকে ঘিরে প্রশ্ন

গাজীপুর প্রতিনিধি:

গাজীপুর মহানগরীর বাসন থানা এলাকায় পুলিশের ‘সোর্স’ পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, ব্ল্যাকমেইল ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে সোহেল নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তিনি এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, জুয়ার আসর নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি এবং সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখানোর মতো বিভিন্ন অভিযোগও রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, সোহেল নিজেকে বাসন থানার পুলিশের ‘ঘনিষ্ঠ সোর্স’ হিসেবে পরিচয় দেন। এ পরিচয় ব্যবহার করে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর ওপর প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কেউ তার কথার বিরোধিতা করলে পুলিশ দিয়ে হয়রানি কিংবা মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা।

বাসন থানায় চাঁদাবাজি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ফুটপাতের ব্যবসায়ী, লেগুনা ও অটোরিকশা স্ট্যান্ড, স্থানীয় ছোট ব্যবসায়ী এবং নির্মাণাধীন ভবনের মালিকদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ দাবি করা হয়। দাবিকৃত অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয় বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন।

এ ছাড়া এলাকায় মাদক ও জুয়ার কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও সোহেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কাছ থেকে সুবিধা নেওয়া এবং বিভিন্ন জুয়ার আসরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা আরও অভিযোগ করেন, নিরীহ যুবকদের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়। কারও কাছে মাদক পাওয়া গেছে—এমন অভিযোগ তুলে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ দাবি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ধরনের ঘটনায় অনেকেই সামাজিক ও আইনি ঝামেলার আশঙ্কায় প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না।

পুলিশের সোর্স সোহেল পরিচয়টি আসলে বৈধ কি না, সেটিও স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে। কারণ, কোনো ব্যক্তি পুলিশের সঙ্গে তথ্যদাতা হিসেবে যুক্ত থাকলেও সেই পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানো, চাঁদা আদায় বা অন্য কোনো অপরাধ করার আইনগত অনুমতি নেই।

এ বিষয়ে বাসন থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, পুলিশের ‘সোর্স’ পরিচয়ে কেউ চাঁদাবাজি বা অপরাধ করার সুযোগ পাবে না। পুলিশের নাম ব্যবহার করে কেউ সাধারণ মানুষকে হয়রানি করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সোহেলের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা প্রমাণ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তারা জানান।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, কোনো ব্যক্তি পুলিশের নাম বা ‘সোর্স’ পরিচয় ব্যবহার করে অপরাধ করলে শুধু সাধারণ মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হন না, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভাবমূর্তিও প্রশ্নের মুখে পড়ে। তাই অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত তদন্ত করবে এবং প্রকৃত ঘটনা সামনে আনবে। একই সঙ্গে পুলিশের নাম ব্যবহার করে কেউ যাতে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখাতে বা অর্থ আদায় করতে না পারে, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে—এমন প্রত্যাশাও স্থানীয়দের।

তবে সোহেলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বক্তব্য এই প্রতিবেদনের সময় পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক সম্পর্কিত তথ্য
আপডেটের সময় : ৮ মিনিট আগে
১ সময় দৃশ্য

পুলিশের সোর্স পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ, গাজীপুরে সোহেলকে ঘিরে প্রশ্ন

আপডেটের সময় : ৮ মিনিট আগে

গাজীপুর প্রতিনিধি:

গাজীপুর মহানগরীর বাসন থানা এলাকায় পুলিশের ‘সোর্স’ পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, ব্ল্যাকমেইল ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে সোহেল নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তিনি এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, জুয়ার আসর নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি এবং সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখানোর মতো বিভিন্ন অভিযোগও রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, সোহেল নিজেকে বাসন থানার পুলিশের ‘ঘনিষ্ঠ সোর্স’ হিসেবে পরিচয় দেন। এ পরিচয় ব্যবহার করে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর ওপর প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কেউ তার কথার বিরোধিতা করলে পুলিশ দিয়ে হয়রানি কিংবা মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা।

বাসন থানায় চাঁদাবাজি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ফুটপাতের ব্যবসায়ী, লেগুনা ও অটোরিকশা স্ট্যান্ড, স্থানীয় ছোট ব্যবসায়ী এবং নির্মাণাধীন ভবনের মালিকদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ দাবি করা হয়। দাবিকৃত অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয় বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন।

এ ছাড়া এলাকায় মাদক ও জুয়ার কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও সোহেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কাছ থেকে সুবিধা নেওয়া এবং বিভিন্ন জুয়ার আসরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা আরও অভিযোগ করেন, নিরীহ যুবকদের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়। কারও কাছে মাদক পাওয়া গেছে—এমন অভিযোগ তুলে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ দাবি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ধরনের ঘটনায় অনেকেই সামাজিক ও আইনি ঝামেলার আশঙ্কায় প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না।

পুলিশের সোর্স সোহেল পরিচয়টি আসলে বৈধ কি না, সেটিও স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে। কারণ, কোনো ব্যক্তি পুলিশের সঙ্গে তথ্যদাতা হিসেবে যুক্ত থাকলেও সেই পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানো, চাঁদা আদায় বা অন্য কোনো অপরাধ করার আইনগত অনুমতি নেই।

এ বিষয়ে বাসন থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, পুলিশের ‘সোর্স’ পরিচয়ে কেউ চাঁদাবাজি বা অপরাধ করার সুযোগ পাবে না। পুলিশের নাম ব্যবহার করে কেউ সাধারণ মানুষকে হয়রানি করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সোহেলের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা প্রমাণ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তারা জানান।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, কোনো ব্যক্তি পুলিশের নাম বা ‘সোর্স’ পরিচয় ব্যবহার করে অপরাধ করলে শুধু সাধারণ মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হন না, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভাবমূর্তিও প্রশ্নের মুখে পড়ে। তাই অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত তদন্ত করবে এবং প্রকৃত ঘটনা সামনে আনবে। একই সঙ্গে পুলিশের নাম ব্যবহার করে কেউ যাতে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখাতে বা অর্থ আদায় করতে না পারে, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে—এমন প্রত্যাশাও স্থানীয়দের।

তবে সোহেলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বক্তব্য এই প্রতিবেদনের সময় পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।