বাংলাদেশ , বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
সর্বাধিক পঠিত

বাঁশখালীতে বন্যায় ১১ হাজার ঘর ক্ষতিগ্রস্ত, নতুন ঘর পাচ্ছে ১০০ পরিবার

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় প্রায় ১১ হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ১০০ পরিবারকে নতুন ঘর দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামীকাল ৯ আগস্ট (রোববার) প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফরকালে নির্বাচিত পরিবারের হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেওয়া হবে।

সরকারের এই উদ্যোগে ১০০ পরিবার নতুন ঠিকানা পেলেও বাকি হাজার হাজার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার কীভাবে পুনর্বাসন হবে, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত ঘরের অনেক বাসিন্দা এখনো আত্মীয়ের বাড়ি, অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত ঘরের অবশিষ্ট অংশে কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।

সাম্প্রতিক বাঁশখালীতে বন্যা পরিস্থিতিতে টানা বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও জোয়ারের পানিতে উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েন উপকূলীয় এলাকার জেলে সম্প্রদায় এবং মাটির ঘরে বসবাসকারী দরিদ্র পরিবারগুলো। বিভিন্ন ক্ষয়ক্ষতির হিসাবে প্রায় ১১ হাজার ঘরবাড়ি ভেঙে বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কয়েক হাজার ঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানিয়েছেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নতুন ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। বাঁশখালী পৌরসভা ও উপজেলার নয়টি ইউনিয়ন থেকে যাচাই-বাছাই করে প্রথম ধাপে ১০০ পরিবারকে নতুন ঘর দেওয়ার জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।

প্রতিটি নতুন ঘরের দৈর্ঘ্য ১৮ ফুট এবং প্রস্থ ১২ ফুট। ঘরে থাকবে দুটি কক্ষ। পাশাপাশি ৫ ফুট বাই ৫ ফুটের একটি সংযুক্ত শৌচাগারও নির্মাণ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি কমাতে ঘরগুলোতে আরসিসি পিলার, কাঠ ও টিন ব্যবহার করা হচ্ছে।

রোববার স্বামীহারা এক নারীর হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘর হস্তান্তর কার্যক্রম শুরু হবে। সন্তানদের নিয়ে বসবাসকারী ওই নারী প্রতীকীভাবে ১০০ পরিবারের প্রতিনিধিত্ব করবেন।

হাজারো পরিবারের পুনর্বাসন নিয়ে প্রশ্ন

১০০ পরিবারকে নতুন ঘর দেওয়ার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তবে বিপুলসংখ্যক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এখনো পুনর্বাসনের বাইরে থাকায় তাদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত ঘরের অনেক পরিবার নতুন করে ঘর নির্মাণের আর্থিক সামর্থ্য হারিয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত সব পরিবারের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করে ধাপে ধাপে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। বিধবা, স্বামীহারা, প্রতিবন্ধী, বয়স্ক, জেলে ও হতদরিদ্র পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

বন্যায় ঘরবাড়ির পাশাপাশি বাঁশখালীর কৃষি, মৎস্য, রাস্তাঘাট, বেড়িবাঁধসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই শুধু ঘর নির্মাণ নয়, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবিকা পুনরুদ্ধারেও সরকারি সহায়তা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পুনর্বাসন কার্যক্রমের পরবর্তী ধাপ

১০০ পরিবারকে নতুন ঘর দেওয়ার মাধ্যমে পুনর্বাসন কার্যক্রমের প্রথম ধাপ শুরু হচ্ছে। এখন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রত্যাশা, দ্রুত দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপে আরও পরিবারকে ঘর দেওয়া হবে।

আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ঘরগুলোর মেরামতের জন্য ঢেউটিন, নগদ অর্থ ও নির্মাণসামগ্রী দেওয়ার দাবিও উঠেছে। পাশাপাশি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ১৫ জন প্রতিবন্ধী শিশু ও ব্যক্তিকে আর্থিক সহায়তার চেক দেওয়ার কথা রয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ২০০ পরিবারের মধ্যে ত্রাণসামগ্রীও বিতরণ করা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফরকে সামনে রেখে বাঁশখালীর বাহারছড়া সমুদ্রসৈকত-সংলগ্ন এলাকায় দুটি হেলিপ্যাড নির্মাণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক অনুষ্ঠানস্থল, হেলিপ্যাড, নিরাপত্তাব্যবস্থা ও নির্মাণাধীন ঘরগুলো পরিদর্শন করেছেন।

বাঁশখালীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য ১০০টি নতুন ঘর নিঃসন্দেহে বড় সহায়তা। তবে বাকি হাজার হাজার পরিবারের পুনর্বাসন নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ক্ষতিগ্রস্তদের প্রত্যাশা, প্রথম ধাপের পর দ্রুত আরও পরিবারকে পুনর্বাসনের আওতায় আনা হবে এবং তাদের হারানো ঘর ও জীবিকা ফিরে পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক সম্পর্কিত তথ্য
আপডেটের সময় : ০৭:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬
৩০ সময় দৃশ্য

বাঁশখালীতে বন্যায় ১১ হাজার ঘর ক্ষতিগ্রস্ত, নতুন ঘর পাচ্ছে ১০০ পরিবার

আপডেটের সময় : ০৭:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় প্রায় ১১ হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ১০০ পরিবারকে নতুন ঘর দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামীকাল ৯ আগস্ট (রোববার) প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফরকালে নির্বাচিত পরিবারের হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেওয়া হবে।

সরকারের এই উদ্যোগে ১০০ পরিবার নতুন ঠিকানা পেলেও বাকি হাজার হাজার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার কীভাবে পুনর্বাসন হবে, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত ঘরের অনেক বাসিন্দা এখনো আত্মীয়ের বাড়ি, অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত ঘরের অবশিষ্ট অংশে কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।

সাম্প্রতিক বাঁশখালীতে বন্যা পরিস্থিতিতে টানা বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও জোয়ারের পানিতে উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েন উপকূলীয় এলাকার জেলে সম্প্রদায় এবং মাটির ঘরে বসবাসকারী দরিদ্র পরিবারগুলো। বিভিন্ন ক্ষয়ক্ষতির হিসাবে প্রায় ১১ হাজার ঘরবাড়ি ভেঙে বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কয়েক হাজার ঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানিয়েছেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নতুন ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। বাঁশখালী পৌরসভা ও উপজেলার নয়টি ইউনিয়ন থেকে যাচাই-বাছাই করে প্রথম ধাপে ১০০ পরিবারকে নতুন ঘর দেওয়ার জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।

প্রতিটি নতুন ঘরের দৈর্ঘ্য ১৮ ফুট এবং প্রস্থ ১২ ফুট। ঘরে থাকবে দুটি কক্ষ। পাশাপাশি ৫ ফুট বাই ৫ ফুটের একটি সংযুক্ত শৌচাগারও নির্মাণ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি কমাতে ঘরগুলোতে আরসিসি পিলার, কাঠ ও টিন ব্যবহার করা হচ্ছে।

রোববার স্বামীহারা এক নারীর হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘর হস্তান্তর কার্যক্রম শুরু হবে। সন্তানদের নিয়ে বসবাসকারী ওই নারী প্রতীকীভাবে ১০০ পরিবারের প্রতিনিধিত্ব করবেন।

হাজারো পরিবারের পুনর্বাসন নিয়ে প্রশ্ন

১০০ পরিবারকে নতুন ঘর দেওয়ার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তবে বিপুলসংখ্যক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এখনো পুনর্বাসনের বাইরে থাকায় তাদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত ঘরের অনেক পরিবার নতুন করে ঘর নির্মাণের আর্থিক সামর্থ্য হারিয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত সব পরিবারের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করে ধাপে ধাপে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। বিধবা, স্বামীহারা, প্রতিবন্ধী, বয়স্ক, জেলে ও হতদরিদ্র পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

বন্যায় ঘরবাড়ির পাশাপাশি বাঁশখালীর কৃষি, মৎস্য, রাস্তাঘাট, বেড়িবাঁধসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই শুধু ঘর নির্মাণ নয়, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবিকা পুনরুদ্ধারেও সরকারি সহায়তা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পুনর্বাসন কার্যক্রমের পরবর্তী ধাপ

১০০ পরিবারকে নতুন ঘর দেওয়ার মাধ্যমে পুনর্বাসন কার্যক্রমের প্রথম ধাপ শুরু হচ্ছে। এখন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রত্যাশা, দ্রুত দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপে আরও পরিবারকে ঘর দেওয়া হবে।

আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ঘরগুলোর মেরামতের জন্য ঢেউটিন, নগদ অর্থ ও নির্মাণসামগ্রী দেওয়ার দাবিও উঠেছে। পাশাপাশি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ১৫ জন প্রতিবন্ধী শিশু ও ব্যক্তিকে আর্থিক সহায়তার চেক দেওয়ার কথা রয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ২০০ পরিবারের মধ্যে ত্রাণসামগ্রীও বিতরণ করা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফরকে সামনে রেখে বাঁশখালীর বাহারছড়া সমুদ্রসৈকত-সংলগ্ন এলাকায় দুটি হেলিপ্যাড নির্মাণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক অনুষ্ঠানস্থল, হেলিপ্যাড, নিরাপত্তাব্যবস্থা ও নির্মাণাধীন ঘরগুলো পরিদর্শন করেছেন।

বাঁশখালীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য ১০০টি নতুন ঘর নিঃসন্দেহে বড় সহায়তা। তবে বাকি হাজার হাজার পরিবারের পুনর্বাসন নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ক্ষতিগ্রস্তদের প্রত্যাশা, প্রথম ধাপের পর দ্রুত আরও পরিবারকে পুনর্বাসনের আওতায় আনা হবে এবং তাদের হারানো ঘর ও জীবিকা ফিরে পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।