চট্টগ্রাম বন্দর জিরো ওয়েটিং টাইম: জাহাজ চলাচলে গতি, কমছে খরচ

দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দর আবারও “জিরো ওয়েটিং টাইম” অবস্থায় ফিরেছে। এর ফলে বহির্নোঙরে কোনো জাহাজকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। এই উন্নতির কারণে জাহাজের টার্ন অ্যারাউন্ড টাইম কমেছে এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও দ্রুত হচ্ছে।
বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম বন্দর জিরো ওয়েটিং টাইম অর্জনের ফলে ব্যবসায়ীদের সময় ও খরচ কমছে। পণ্য দ্রুত ওঠানামা হওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়ছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, ঈদের ছুটির সময়ও বন্দর ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখা হয়েছিল। আগে যেখানে জাহাজকে ৩ থেকে ৫ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো, এখন সেই সময় শূন্যে নেমে এসেছে। এতে জাহাজ দ্রুত পণ্য খালাস করে বন্দর ত্যাগ করতে পারছে।
তিনি আরও জানান, এই উদ্যোগের ফলে শিপিং কোম্পানিগুলোর খরচ কমেছে। আমদানিকারকেরা দ্রুত পণ্য পাচ্ছেন এবং রপ্তানিকারকেরাও নির্ধারিত সময়ে পণ্য পাঠাতে পারছেন। ফলে বাজারে পণ্যের সরবরাহ ঠিক থাকছে এবং দামেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
এর আগে গত সেপ্টেম্বর মাসে প্রথমবার চট্টগ্রাম বন্দর জিরো ওয়েটিং টাইম অর্জন করেছিল। এরপর অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসেও এই অবস্থা বজায় ছিল। তবে জানুয়ারির শেষ দিকে কিছু কর্মবিরতি ও জটিলতার কারণে সাময়িকভাবে সমস্যা তৈরি হয়। পরে আবার সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
রমজান মাসের শুরু থেকেই সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে বন্দর কর্তৃপক্ষ বিশেষ পরিকল্পনা নেয়। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রোস্টার ডিউটির মাধ্যমে ঈদের ছুটিতেও কাজ চালু রাখা হয়। ফলে এখন আবারও জাহাজের অপেক্ষা শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চট্টগ্রাম বন্দর আপডেট অনুযায়ী এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন গতি আসবে।








