জ্বালানি সংকটে বিপাকে সুনামগঞ্জের বাইকচালকরা

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাব এখন বাংলাদেশের জ্বালানি বাজারেও স্পষ্ট। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মতো সুনামগঞ্জেও দেখা দিয়েছে তীব্র জ্বালানি সংকট। পেট্রোল পাম্পগুলোতে তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় তৈরি হয়েছে দীর্ঘ লাইন। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালকরা।
সরেজমিনে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, শত শত বাইকচালক তেলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন। প্রশাসনের তদারকিতে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও গাড়ির বৈধ কাগজপত্র ছাড়া কাউকে তেল দেওয়া হচ্ছে না। এতে অনেক চালক তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
প্রশাসনের দাবি, এই পদক্ষেপের ফলে পাম্পে বিশৃঙ্খলা কমবে এবং তেলের সঠিক বণ্টন নিশ্চিত করা যাবে। তবে বাস্তবে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সাধারণ চালকদের জীবনে।
বিশেষ করে রাইড শেয়ারিং চালকরা এখন সবচেয়ে বেশি সংকটে আছেন। অনেকেই কিস্তিতে মোটরসাইকেল কিনে জীবিকা চালাচ্ছিলেন। কিন্তু জ্বালানি সংকট ও নতুন কড়াকড়ির কারণে তাদের আয় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
একজন চালক বলেন, “আমরা প্রতিদিন রাস্তায় বের হয়ে আয় করি। এখন তেল না পেলে ঘরে বসে থাকতে হয়। কিস্তির টাকা দিতে পারি না, সংসার চালানোও কঠিন হয়ে গেছে।”
খোলা বাজারেও তেলের সংকট থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এতে শুধু চালকরাই নয়, সাধারণ যাত্রীদেরও ভোগান্তি বাড়ছে।
চালকদের দাবি, এই কঠিন সময়ে প্রশাসন যেন কিছুটা নমনীয় হয়। তারা চান, কাগজপত্র যাচাইয়ের পাশাপাশি তেলের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা হোক। একই সঙ্গে তারা সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দ্রুত এই জ্বালানি সংকট সমাধান না হলে পরিবহন খাতের প্রান্তিক শ্রমিকদের জীবন আরও কঠিন হয়ে পড়বে। এতে সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।








