মোহনপুরের ইউএনওর ব্যতিক্রমী উদ্যোগ, ঝাড়ু হাতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান

মোঃ সোহেল রানা, রাজশাহী:
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলা চত্বরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব রাখতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন মোহনপুরের ইউএনও ফাহিমা বিনতে আক্তার। সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজেই ঝাড়ু হাতে উপজেলা চত্বর পরিষ্কার করতে মাঠে নামায় প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলা চত্বরের বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা আবর্জনা পরিষ্কার, আগাছা অপসারণ এবং গাছের পরিচর্যায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে সরাসরি অংশ নেন ইউএনও। ছুটির দিন কিংবা কর্মব্যস্ত সময়ের ফাঁকে তিনি উপজেলা চত্বরের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি করছেন।
তার এমন উদ্যোগে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও কাজের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। একই সঙ্গে স্থানীয় মানুষের মধ্যেও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে সচেতনতা তৈরি হচ্ছে। একজন প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তা নিজে ঝাড়ু হাতে নিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে অংশ নেওয়ায় বিষয়টি স্থানীয়দের নজর কেড়েছে।
স্থানীয়রা বলেন, সাধারণত সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতেই বেশি দেখা যায়। কিন্তু একজন ইউএনও যখন নিজে পরিচ্ছন্নতার কাজে অংশ নেন, তখন সেটি অন্যদের জন্যও অনুপ্রেরণার সৃষ্টি করে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম এমন উদ্যোগ থেকে পরিবেশ পরিষ্কার রাখার বিষয়ে উৎসাহ পেতে পারে।
ইউএনও ফাহিমা বিনতে আক্তার বলেন, “পরিচ্ছন্ন পরিবেশ শুধু সৌন্দর্যের বিষয় নয়, এটি সুস্বাস্থ্যেরও প্রতীক। আমরা চাই মোহনপুর উপজেলা চত্বর সবার জন্য একটি আদর্শ ও দৃষ্টান্ত হয়ে উঠুক। সবার সহযোগিতা পেলে এই পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ধরে রাখা সম্ভব।”
উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও এই পরিচ্ছন্নতা অভিযানকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তাদের মতে, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিজে মাঠে থেকে কাজ করলে কর্মীদের মধ্যে দায়িত্ববোধ আরও বাড়ে। পাশাপাশি নিয়মিত পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস তৈরি হয়।
পরিবেশ সুন্দর রাখতে শুধু প্রশাসনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সচেতন হতে হবে। যেখানে-সেখানে ময়লা না ফেলা, নির্দিষ্ট স্থানে আবর্জনা ফেলা এবং সরকারি স্থাপনার পরিবেশ পরিষ্কার রাখা সবার দায়িত্ব।
মোহনপুর উপজেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে একটি ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। প্রশাসনের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নিজে পরিচ্ছন্নতার কাজে অংশ নেওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও সচেতনতা বাড়ছে। এমন উদ্যোগ নিয়মিত অব্যাহত থাকলে উপজেলা চত্বর আরও সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব হয়ে উঠবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।








