বাংলাদেশ , বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
সর্বাধিক পঠিত

রাজশাহী কারাগারে রাসেলের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ

মোঃ সোহেল রানা রাজশাহী

রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে এক সিনিয়র সহকারী কারারক্ষীর বিরুদ্ধে বন্দীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়, শারীরিক নির্যাতন এবং মানসিকভাবে হয়রানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত কারারক্ষীর নাম রাসেল (ব্যাচ নং-১৮৭২)। বন্দীদের মধ্যে তিনি “সিআইডি রাসেল” নামে পরিচিত বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার-এ থাকা কয়েকজন বন্দী ও তাদের স্বজন দাবি করেছেন, অভিযুক্ত কারারক্ষী নিয়মিত বিভিন্ন অজুহাতে টাকা দাবি করেন। নির্ধারিত অর্থ না দিলে খাবার বন্ধ করে দেওয়া, অতিরিক্ত পরিশ্রমের কাজ করানো, শারীরিকভাবে মারধর এবং মানসিকভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগীদের স্বজনদের ভাষ্য, কারাগারের ভেতর থেকে গোপনে ফোন করে একাধিক বন্দী পরিবারের সদস্যদের কাছে দ্রুত টাকা পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছেন। তারা অভিযোগ করেন, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের ওপর নানা ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়। ফলে অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে ধার-দেনা করে অর্থ সংগ্রহ করে পাঠাচ্ছেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, কারারক্ষী রাসেল বন্দীদের সঙ্গে সামান্য বিষয় নিয়েও উত্তেজিত আচরণ করেন। অনেক সময় অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে টাকা প্রদান করলে তার আচরণ পরিবর্তন হয়ে যায় বলে দাবি করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী।

কারাগারের মূল প্রতিপাদ্য “রাখিব নিরাপদ, দেখাবো আলোর পথ” হলেও অভিযোগকারীদের বক্তব্যে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। তাদের দাবি, এসব ঘটনার কারণে সাধারণ বন্দীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকেই নিজেদের নিরাপত্তার কথা ভেবে পরিবারের ওপর অর্থের জন্য চাপ সৃষ্টি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবীদের মতে, কোনো বন্দীর সঙ্গে অমানবিক আচরণ কিংবা অর্থ আদায়ের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। কারাগার সংশোধনমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হওয়ার কথা। সেখানে প্রত্যেক বন্দীর নিরাপত্তা, মর্যাদা ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার আল মামুন বলেন, “কারাগারের ভেতরে বন্দীদের ওপর নির্যাতন বা অর্থ দাবির কোনো সুযোগ নেই। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে অথবা তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কারারক্ষীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তবে এই অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত কারারক্ষী রাসেল-এর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের ফলাফলের দিকেই এখন সবার নজর।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক সম্পর্কিত তথ্য
আপডেটের সময় : ০৪:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬
২৯ সময় দৃশ্য

রাজশাহী কারাগারে রাসেলের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ

আপডেটের সময় : ০৪:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬

মোঃ সোহেল রানা রাজশাহী

রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে এক সিনিয়র সহকারী কারারক্ষীর বিরুদ্ধে বন্দীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়, শারীরিক নির্যাতন এবং মানসিকভাবে হয়রানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত কারারক্ষীর নাম রাসেল (ব্যাচ নং-১৮৭২)। বন্দীদের মধ্যে তিনি “সিআইডি রাসেল” নামে পরিচিত বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার-এ থাকা কয়েকজন বন্দী ও তাদের স্বজন দাবি করেছেন, অভিযুক্ত কারারক্ষী নিয়মিত বিভিন্ন অজুহাতে টাকা দাবি করেন। নির্ধারিত অর্থ না দিলে খাবার বন্ধ করে দেওয়া, অতিরিক্ত পরিশ্রমের কাজ করানো, শারীরিকভাবে মারধর এবং মানসিকভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগীদের স্বজনদের ভাষ্য, কারাগারের ভেতর থেকে গোপনে ফোন করে একাধিক বন্দী পরিবারের সদস্যদের কাছে দ্রুত টাকা পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছেন। তারা অভিযোগ করেন, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের ওপর নানা ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়। ফলে অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে ধার-দেনা করে অর্থ সংগ্রহ করে পাঠাচ্ছেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, কারারক্ষী রাসেল বন্দীদের সঙ্গে সামান্য বিষয় নিয়েও উত্তেজিত আচরণ করেন। অনেক সময় অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে টাকা প্রদান করলে তার আচরণ পরিবর্তন হয়ে যায় বলে দাবি করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী।

কারাগারের মূল প্রতিপাদ্য “রাখিব নিরাপদ, দেখাবো আলোর পথ” হলেও অভিযোগকারীদের বক্তব্যে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। তাদের দাবি, এসব ঘটনার কারণে সাধারণ বন্দীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকেই নিজেদের নিরাপত্তার কথা ভেবে পরিবারের ওপর অর্থের জন্য চাপ সৃষ্টি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবীদের মতে, কোনো বন্দীর সঙ্গে অমানবিক আচরণ কিংবা অর্থ আদায়ের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। কারাগার সংশোধনমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হওয়ার কথা। সেখানে প্রত্যেক বন্দীর নিরাপত্তা, মর্যাদা ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার আল মামুন বলেন, “কারাগারের ভেতরে বন্দীদের ওপর নির্যাতন বা অর্থ দাবির কোনো সুযোগ নেই। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে অথবা তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কারারক্ষীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তবে এই অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত কারারক্ষী রাসেল-এর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের ফলাফলের দিকেই এখন সবার নজর।