বাংলাদেশ , বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
সর্বাধিক পঠিত

আড়াইহাজারে মাকে হত্যা মামলায় সাড়ে ৪ বছর পর গ্রেপ্তার মেয়ে

সোহান মিয়া, আড়াইহাজার নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: আড়াইহাজারে মাকে হত্যা মামলায় দীর্ঘ সাড়ে চার বছর পর অভিযুক্ত মেয়েকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের ছোট বিনাইরচর এলাকা থেকে আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে আয়েশা আক্তার রানু (৪৩) নামে ওই নারীকে আটক করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত নুরুন্নাহার বেগম ওই এলাকার মৃত মোবারক হোসেনের স্ত্রী। ২০২২ সালের ৭ জানুয়ারি সন্ধ্যায় নিজ বাড়ির একটি কক্ষে গলাকাটা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের ভাই বিল্লাল হোসেন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে আড়াইহাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার প্রাথমিক তদন্তে নিহতের মেয়ে আয়েশা আক্তার রানুসহ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একই সময় সন্দেহভাজন হিসেবে নিহতের ছেলে কবির হোসেনকেও আটক করে পুলিশ। পরে মামলার তদন্তভার পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়।

দীর্ঘ তদন্ত শেষে সিআইডি জানায়, পারিবারিক বিরোধ এবং পৈতৃক সম্পত্তি এককভাবে ভোগ করার উদ্দেশ্যে রানু পরিকল্পিতভাবে সহযোগীদের নিয়ে নিজের মাকে হত্যা করেন। তদন্তে আরও উঠে আসে, হত্যার দায় নিজের ভাইয়ের ওপর চাপিয়ে দেওয়ারও পরিকল্পনা ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

তদন্তে সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত আয়েশা আক্তার রানুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। সেই পরোয়ানার আলোকে রোববার সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে আড়াইহাজার থানা পুলিশ।

মাকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া ওই নারীকে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা চলছে।

আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সবজেল হোসেন জানান, আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন সংবেদনশীল মামলায় তদন্তের মাধ্যমে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তদন্তকারী সংস্থা দাবি করেছে, তারা দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন তথ্য, সাক্ষ্য এবং প্রমাণ বিশ্লেষণ করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তবে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম চলমান থাকায় চূড়ান্ত রায়ের আগে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতেই প্রমাণিত হবে।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক সম্পর্কিত তথ্য
আপডেটের সময় : ১০:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬
২৪ সময় দৃশ্য

আড়াইহাজারে মাকে হত্যা মামলায় সাড়ে ৪ বছর পর গ্রেপ্তার মেয়ে

আপডেটের সময় : ১০:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬

সোহান মিয়া, আড়াইহাজার নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: আড়াইহাজারে মাকে হত্যা মামলায় দীর্ঘ সাড়ে চার বছর পর অভিযুক্ত মেয়েকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের ছোট বিনাইরচর এলাকা থেকে আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে আয়েশা আক্তার রানু (৪৩) নামে ওই নারীকে আটক করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত নুরুন্নাহার বেগম ওই এলাকার মৃত মোবারক হোসেনের স্ত্রী। ২০২২ সালের ৭ জানুয়ারি সন্ধ্যায় নিজ বাড়ির একটি কক্ষে গলাকাটা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের ভাই বিল্লাল হোসেন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে আড়াইহাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার প্রাথমিক তদন্তে নিহতের মেয়ে আয়েশা আক্তার রানুসহ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একই সময় সন্দেহভাজন হিসেবে নিহতের ছেলে কবির হোসেনকেও আটক করে পুলিশ। পরে মামলার তদন্তভার পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়।

দীর্ঘ তদন্ত শেষে সিআইডি জানায়, পারিবারিক বিরোধ এবং পৈতৃক সম্পত্তি এককভাবে ভোগ করার উদ্দেশ্যে রানু পরিকল্পিতভাবে সহযোগীদের নিয়ে নিজের মাকে হত্যা করেন। তদন্তে আরও উঠে আসে, হত্যার দায় নিজের ভাইয়ের ওপর চাপিয়ে দেওয়ারও পরিকল্পনা ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

তদন্তে সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত আয়েশা আক্তার রানুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। সেই পরোয়ানার আলোকে রোববার সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে আড়াইহাজার থানা পুলিশ।

মাকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া ওই নারীকে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা চলছে।

আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সবজেল হোসেন জানান, আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন সংবেদনশীল মামলায় তদন্তের মাধ্যমে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তদন্তকারী সংস্থা দাবি করেছে, তারা দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন তথ্য, সাক্ষ্য এবং প্রমাণ বিশ্লেষণ করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তবে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম চলমান থাকায় চূড়ান্ত রায়ের আগে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতেই প্রমাণিত হবে।