কালিহাতীতে রেললাইন দুর্ঘটনায় দুই নারী নিহত, অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার

শরিফুল ইসলাম, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে কালিহাতী রেললাইন দুর্ঘটনা ও একই এলাকায় অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার দুপুরে উপজেলার সল্লা ইউনিয়ন এলাকায় রেললাইনের পৃথক দুটি স্থান থেকে দুই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় প্রশাসন ও রেলওয়ে পুলিশ।
প্রথম ঘটনায় নিহত হয়েছেন উপজেলার সল্লা ইউনিয়নের মীরহামজানী এলাকার সুজন মিয়ার স্ত্রী মুক্তা আক্তার (২৮)। স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে তার মৃত্যু হয়। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি স্বামীর সঙ্গে রেললাইন পার হওয়ার সময় দুর্ঘটনার শিকার হন। স্বামীর কোলে সন্তান থাকায় তিনি কিছুটা পেছনে ছিলেন। অরক্ষিত রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় হঠাৎ ট্রেন চলে এলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
পরিবারের সদস্যরা পরে মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যান। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
একই দিনে রেললাইনের পাশের ঘাসের ঝোপ থেকে উদ্ধার করা হয় আরও একটি অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার। মরদেহটি অর্ধগলিত অবস্থায় পাওয়া যায়, যা দেখে স্থানীয়দের ধারণা এটি কয়েকদিন আগের ঘটনা হতে পারে। তবে তাকে কোথায় এবং কীভাবে হত্যা করা হয়েছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয়রা দাবি করছেন, এটি একটি হত্যাকাণ্ড হতে পারে এবং মরদেহটি পরে এখানে ফেলে রাখা হয়েছে। তবে রেলওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
টাঙ্গাইল রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এএসআই এনামুল মোল্লা বলেন, অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার করে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। পাশাপাশি মুক্তা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনাটিও গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।
এদিকে নিহত মুক্তা আক্তারের ভাই দাবি করেছেন, পারিবারিক কলহের কারণে তিনি আত্মহত্যা করতে পারেন। তবে পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্ত ও তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পরই প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।
এই দুই পৃথক ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা রেলক্রসিংগুলোতে নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা আর না ঘটে।








