ঠাকুরগাঁওয়ে ট্যাপেন্টাডলসহ যুবক আটক, ৮০ পিস মাদক উদ্ধার

সাংবাদিক রহমত আরিফ ঠাকুরগাঁও
ঠাকুরগাঁও, ২ আগস্ট: ঠাকুরগাঁওয়ে ট্যাপেন্টাডলসহ যুবক আটক হওয়ার ঘটনায় জেলার মাদকবিরোধী অভিযানে আরও একটি সফলতা অর্জন করেছে ঠাকুরগাঁও সদর থানা পুলিশ। রবিবার (২ আগস্ট) পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ৮০ পিস নেশাজাতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট এবং মাদক বিক্রির কাজে ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় এক যুবককে আটক করে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রবিবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর হাজীপাড়া বড়মাঠের পশ্চিম পাশে ঈদের নামাজের মিম্বরের সামনে ঠাকুরগাঁও সদর থানার মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সদর থানার এসআই (নিঃ) মো. লিখন হোসেন। তার সঙ্গে ছিলেন এএসআই (নিঃ) সারোয়ার জাহান এবং সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যরা।
অভিযান চলাকালে উত্তর বোচাপুকুর এলাকার শরিফুল ইসলাম (১৯), পিতা—মৃত আব্বাস আলী এবং মাতা—মোছা. শরিফা বেগমকে আটক করা হয়। পরে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে তার হাতে থাকা লাল রঙের প্লাস্টিকের বাজারের ব্যাগ তল্লাশি করা হলে সেখান থেকে ৮০ পিস কমলা রঙের নেশাজাতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, অভিযানের সময় মাদক বিক্রি ও যোগাযোগের কাজে ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। বিষয়টি আরও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাজাহান আলী বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে ঠাকুরগাঁও সদর থানা পুলিশের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে। মাদক সমাজ ও বিশেষ করে যুবসমাজের জন্য বড় হুমকি। মাদক ব্যবসা, পরিবহন কিংবা সরবরাহের সঙ্গে জড়িত কাউকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।”
তিনি আরও বলেন, মাদক নির্মূলে পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেউ মাদক সংক্রান্ত কোনো তথ্য জানলে তা পুলিশকে জানাতে অনুরোধ করেন তিনি।
পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। উদ্ধার করা আলামত জব্দ তালিকাভুক্ত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হবে।
জেলা পুলিশের দাবি, মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হবে। মাদক ব্যবসায়ী ও সরবরাহকারীদের আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। এ ধরনের ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে সমাজ থেকে মাদকের বিস্তার কমিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।








