দোয়ারাবাজারে শ্বশুর হত্যায় জড়িতদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন

এম ডি ফারুক মিয়া দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি :
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে শ্বশুর হত্যার ঘটনায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন এলাকাবাসী। শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধন ও বিক্ষোভ শেষে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে স্থানীয় বাসিন্দা আরজু মিয়ার সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন নরসিংপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সামছুল হক নমু, ইসলামপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হেকিম, সমাজসেবক ডা. আবুল কালাম আজাদ, কবির আহমদ, ইউপি সদস্য আফরোজা খানম, সাবেক ইউপি সদস্য বইছুর-মা, মো. ফরহাদ হোসেন, হাবিবুল্লাহ, রুহেল আহমদ, কবির মিয়া, পূর্ব চাইরগাঁও গ্রামের সমাজসেবক হেলার আহমদ ও নুরু মিয়াসহ স্থানীয়রা।
বক্তারা বলেন, একজন বাবাকে হত্যার ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এ ঘটনায় এলাকায় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তারা দোয়ারাবাজারে শ্বশুর হত্যা মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ কমবে। তারা গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান। এ সময় কয়েক শতাধিক মানুষ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, এমন ঘটনায় শুধু একটি পরিবার নয়, পুরো সমাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করার পাশাপাশি দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
উল্লেখ্য, গত শনিবার (১৫ আগস্ট) রাতে দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামে ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় নিহতের নাতনি মোছা. আছমা বেগম (২৬) বাদী হয়ে দোয়ারাবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় নিহতের প্রবাসী ছেলে ইসমাঈল হোসাইন, পুত্রবধূ হোসনা বেগম, হাবিবনগর গ্রামের খায়রুল হকের ছেলে রুহুল আমিন, কুদ্দুস মিয়ার ছেলে নজরুল ইসলাম ও জিয়াউর রহমানসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগের ভিত্তিতে পুত্রবধূ হোসনা বেগমকে সন্দেহজনক হিসেবে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। ঘটনার পরপরই তিনজনকে গ্রেপ্তার করে থানা পুলিশ।
তবে মামলার তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত বিষয়গুলো পুলিশের তদন্ত এবং আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। এলাকাবাসী দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।







