নাসিরনগরে খালা পরিচয়ে শিক্ষার্থী অপহরণের চেষ্টায় তরুণী আটক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে শিশু অপহরণের চেষ্টা নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার কুন্ডা ইউনিয়নের তুল্লাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ‘খালা’ পরিচয় দিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন এক তরুণী। তবে শিক্ষকদের সতর্কতা ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় ওই তরুণীকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
ঘটনাটি বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে নাসিরনগর উপজেলার তুল্লাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঘটে। অপহরণের চেষ্টার শিকার শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাত (৫)। সে তুল্লাপাড়া গ্রামের আব্দুল বাছিরের মেয়ে।
পুলিশ জানায়, আটক হওয়া তরুণীর নাম সুমাইয়া আক্তার (২০)। তার বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর উপজেলায়। বর্তমানে তিনি নাসিরনগর থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে ক্লাস চলাকালে সুমাইয়া আক্তার বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন। তিনি নিজেকে শিশুটির ‘খালা’ পরিচয় দিয়ে জান্নাতকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সন্দেহ হয়। তারা দ্রুত শিক্ষার্থীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
শিশুটির মা বিদ্যালয়ে এসে জানান, ওই তরুণী তাদের কোনো আত্মীয় নন এবং তাকে তারা চেনেন না। এরপর স্থানীয়দের সহায়তায় তরুণীকে আটক করা হয়। পরে তাকে নাসিরনগরে শিশু অপহরণের চেষ্টা অভিযোগে নাসিরনগর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও সতর্কতা প্রয়োজন। বিদ্যালয়ে আগত অপরিচিত ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাইয়ের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেছেন অভিভাবকরা।
এদিকে খালা পরিচয়ে স্কুল থেকে শিক্ষার্থী নেওয়ার চেষ্টা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা শুরু হয়েছে। সচেতন মহল বলছে, শিশুদের নিরাপত্তার স্বার্থে অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শিশু অপহরণের চেষ্টার ঘটনায় এক তরুণীকে আটক করা হয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ লিখিত অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া শিশুটিকে নিরাপদে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং আটক তরুণীর উদ্দেশ্য জানতে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।








