রাঙামাটিতে পাহাড় ধস ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৩০০ পরিবারকে খাদ্য সহায়তা

রাঙামাটি জেলা প্রতিনিধি:মোঃ কামরুল ইসলাম,
রাঙামাটিতে পাহাড় ধস ও টানা বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিশেষ বরাদ্দের আওতায় শুক্রবার (৭ আগস্ট ২০২৬) সকালে রাঙামাটি পৌর এলাকার ১ হাজার ৩০০ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হয়।
রাঙামাটি পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের তবলছড়ি এডিসি হিলস্থ ওমদামিয়া হিল পৌর জুনিয়র হাই স্কুল প্রাঙ্গণে এই ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের পৌর এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য মো. হাবীব আজমের বিশেষ বরাদ্দ এবং তাঁর সার্বিক তত্ত্বাবধানে কার্যক্রমটি পরিচালিত হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও রাঙামাটিতে পাহাড় ধসের ঘটনায় বহু পরিবারের বসতঘর সম্পূর্ণ বা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক নিম্নআয়ের মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। ফলে তাদের মধ্যে তীব্র খাদ্য সংকট তৈরি হয়েছে। এই সংকট লাঘব করতেই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে জরুরি খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি পৌর বিএনপির সভাপতি শফিউল আজম শফি, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল বাসেত অপু, জেলা বিএনপির সহ-যুব বিষয়ক সম্পাদক মো. নুরনবীসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
বক্তারা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র এবং জীবিকার উৎস হারিয়ে অনেক পরিবার চরম দুর্ভোগে রয়েছে। এই কঠিন সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানবিক দায়িত্ব। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিশেষ বরাদ্দের মাধ্যমে জেলা পরিষদ এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
তারা আরও জানান, শুধু ৪ নম্বর ওয়ার্ড নয়, পর্যায়ক্রমে রাঙামাটি পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝেও ধারাবাহিকভাবে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হবে। এর মাধ্যমে কোনো অসহায় পরিবার যেন সহযোগিতা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।
এদিকে বিপুল সংখ্যক উপকারভোগীর উপস্থিতিতেও যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা না ঘটে, সেজন্য রাঙামাটি কোতোয়ালি থানা পুলিশ সার্বিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখে। সুশৃঙ্খল পরিবেশে লাইনে দাঁড়িয়ে উপকারভোগীরা খাদ্যসামগ্রী গ্রহণ করেন। এ সময় তারা পুলিশের দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করেন।
খাদ্য সহায়তা পাওয়া পরিবারগুলোর সদস্যরা জানান, পাহাড় ধস ও বন্যার কারণে তাদের ঘরে খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। এমন কঠিন সময়ে সরকারি এই সহায়তা তাদের জন্য বড় স্বস্তি। তারা পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রম আরও জোরদার করার দাবি জানান।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তাৎক্ষণিক খাদ্য সংকট দূর করার পাশাপাশি তাদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করে। সরকারি ও বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবে।








