হাডুডু খেলাকে কেন্দ্র করে বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি

মোঃ সাইফুল ইসলাম, নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার ধরমন্ডল ও শিমুলঘর গ্রামের মধ্যে হাডুডু খেলাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি হয়েছে। গত ১ আগস্ট চাপরতলা ইউনিয়নের খান্দুরা সালামবাজারে অনুষ্ঠিত হাডুডু খেলাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিদের উদ্যোগে বিষয়টি মীমাংসার জন্য সালিশের আয়োজন করা হয়।
সোমবার (১০ আগস্ট) খান্দুরা সালামবাজারে অনুষ্ঠিত বিচার-সালিশে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনা হয়। পরে পারস্পরিক আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে হাডুডু খেলাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি করা হয়।
সালিশে সভাপতিত্ব করেন ১০ নম্বর ছাতিয়াইন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মিনহাজ উদ্দিন চৌধুরী কাসেদ। তিনি উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করেন। আলোচনার পর দুই পক্ষই বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানে সম্মত হয়।
সালিশে উপস্থিত ছিলেন চৌমুহনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মাধবপুর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মাহবুবুর রহমান সোহাগ, ছাতিয়াইন ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুর রউফ মেম্বার, নাসিরনগর উপজেলার ধরমন্ডল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ শফিকুল ইসলাম সফিক, চাপরতলা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ পারভেজ মাস্টার এবং সদ্য অবসরপ্রাপ্ত ছাতিয়াইন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ কামরুল হাসান মাস্টার।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা শেখ মোঃ ফরাস উদ্দিন সেলিম, সমাজসেবক শেখ নজরুল ইসলাম বিলালসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। হবিগঞ্জ-৪ আসনের এমপি এস এম ফয়সলের ছাতিয়াইন ইউপি উন্নয়ন কমিটির প্রতিনিধি ও যুবদল নেতা মোঃ বিলাল মিয়া, আনন্দ টিভির মাধবপুর উপজেলা প্রতিনিধি মোঃ রাকিব উদ্দিন লস্কর এবং দৈনিক মানবকণ্ঠের মাধবপুর উপজেলা প্রতিনিধি এম এ কাদেরও উপস্থিত ছিলেন।
সালিশে খান্দুরা গ্রামের কমিটির সদস্য, শিমুলঘর ও ধরমন্ডল গ্রামের খেলোয়াড়, সমাজসেবক, গ্রাম্য সালিশান এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।
স্থানীয়দের মতে, খেলাধুলা মানুষের মধ্যে বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্ব তৈরি করে। তাই কোনো খেলাকে কেন্দ্র করে যেন বিরোধ বা সংঘাত তৈরি না হয়, সেদিকে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
সকলের আন্তরিক সহযোগিতা ও পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি হওয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।
স্থানীয়রা আশা করছেন, ভবিষ্যতে শিমুলঘর, ধরমন্ডল ও খান্দুরাসহ আশপাশের গ্রামের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি আরও শক্তিশালী হবে।
খেলাধুলা হোক ভ্রাতৃত্ব, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন। কোনোভাবেই তা যেন বিভেদ বা সংঘাতের কারণ না হয়—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।








