বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে ফতেপুরে সচেতনতামূলক লিগ্যাল এইড সভা

মোঃ রাসেল আহমেদ, নেত্রকোণা প্রতিনিধি
নেত্রকোণার মদন উপজেলার ৮ নম্বর ফতেপুর ইউনিয়নে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে লিগ্যাল এইড কমিটির সঙ্গে একটি অ্যাডভোকেসি সভা ও সচেতনতামূলক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (২৮ জুন) সকাল ১১টায় ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এ সভায় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক, সমাজকর্মী এবং স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা অংশ নেন।
মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)-এর EmpowerHer প্রকল্পের আওতায় এবং নাগরিকতা: সিভিক এনগেজমেন্ট ফান্ড (CEF)-এর সহযোগিতায় কর্মসূচির আয়োজন করে স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতি (এসইউএস)।
অনুষ্ঠানটির বাস্তবায়ন ও সমন্বয় করেন এসইউএস নেত্রকোণার সহকারী প্রকল্প সমন্বয়কারী মোহাম্মদ মাসুম ইবনে জয়নাল এবং মদন উপজেলার ফ্যাসিলিটেটর চয়ন সরকার। তারা জানান, ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারি আইনগত সহায়তা সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ৮ নম্বর ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সামিউল হায়দার সাফি। এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য, ইউনিয়ন লিগ্যাল এইড কমিটির সদস্য, শিক্ষক প্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা রোধে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার এবং আর্থিকভাবে অসচ্ছল মানুষ সরকারি লিগ্যাল এইড সেবার মাধ্যমে বিনামূল্যে আইনি পরামর্শ ও সহায়তা গ্রহণ করতে পারেন।
সভায় জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার বিভিন্ন কার্যক্রম, আইনগত সহায়তা পাওয়ার যোগ্যতা, আবেদন প্রক্রিয়া এবং লিগ্যাল এইড হেল্পলাইন ১৬৪৩০ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়। বক্তারা ইউনিয়ন পর্যায়ে লিগ্যাল এইড কমিটির কার্যক্রম আরও সক্রিয় ও জনবান্ধব করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, নারী নির্যাতন বন্ধ এবং বিচারপ্রার্থীদের দোরগোড়ায় আইনগত সহায়তা পৌঁছে দিতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সভা শেষে অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম নিয়মিত আয়োজন করা হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আইন সম্পর্কে সচেতনতা আরও বাড়বে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সরকারি লিগ্যাল এইড সেবা আরও কার্যকর ও সহজলভ্য হবে।








