নান্দাইলে সাক্ষরতা দিবসে পিছিয়ে পড়া শিশুদের স্কুলমুখী করার আহ্বান

‘মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ময়মনসিংহের নান্দাইলে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় স্কুল থেকে পিছিয়ে পড়া ও ঝরে পড়া শিশুদের চিহ্নিত করে তাদের আবার বিদ্যালয়মুখী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে নান্দাইল উপজেলা প্রশাসনিক ভবনের সভাকক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর আয়োজনে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা জান্নাত। উপজেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনোয়ারুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় উপজেলা শিক্ষা অফিসার ফজিলাতুন্নেসাসহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষার বাইরে থাকা শিশুদের বিদ্যালয়ে ফেরানোর আহ্বান
সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও ফাতেমা জান্নাত বলেন, স্কুল থেকে পিছিয়ে পড়া ও ঝরে পড়া শিশুদের চিহ্নিত করে তাদের আবারও বিদ্যালয়মুখী করতে হবে। কোনো শিশু যেন অর্থনৈতিক, পারিবারিক কিংবা সামাজিক কারণে শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, একটি শিশুর সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো শিক্ষা। শিক্ষা একটি শিশুকে জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি আত্মবিশ্বাসী ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করে। তাই কোনো শিশুকে বিদ্যালয়ের বাইরে রাখা যাবে না।
ইউএনও আরও বলেন, শিক্ষার বাইরে থাকা শিশুদের বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে শুধু প্রশাসনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। এ কাজে শিক্ষক, সাংবাদিক, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, অভিভাবক এবং সমাজের সচেতন নাগরিকদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সবাই মিলে উদ্যোগ নিলে নান্দাইলে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমানো সম্ভব হবে।
পিছিয়ে পড়া শিশুদের নিয়ে সমন্বিত উদ্যোগের গুরুত্ব
নান্দাইলে পিছিয়ে পড়া শিশুদের বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনতে তাদের সমস্যাগুলো আগে চিহ্নিত করা জরুরি। অনেক শিশু পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে নিয়মিত স্কুলে যেতে পারে না। আবার কেউ কেউ পারিবারিক দায়িত্ব, অভিভাবকের অসচেতনতা কিংবা সামাজিক নানা সমস্যার কারণে পড়াশোনা থেকে দূরে সরে যায়।
এ ধরনের শিশুদের জন্য স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে শিক্ষার গুরুত্ব বোঝানো, বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতির বিষয়ে উৎসাহ দেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, একটি শিশুকে শিক্ষার মূলধারায় ফিরিয়ে আনা মানে শুধু একজন শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ে পাঠানো নয়; বরং তার ভবিষ্যৎকে নিরাপদ ও সম্ভাবনাময় করার পথ তৈরি করা। তাই শিশুদের শিক্ষা নিশ্চিত করতে পরিবার ও সমাজকে আরও সচেতন হতে হবে।
সাক্ষরতা বাড়াতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন
আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ সভায় বক্তারা বলেন, দেশের উন্নয়নের সঙ্গে সাক্ষরতার বিষয়টি সরাসরি যুক্ত। শিক্ষিত ও দক্ষ জনগোষ্ঠী একটি এলাকার সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
শিশুদের পাশাপাশি যারা এখনও শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত, তাদের জন্যও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো দরকার। বিশেষ করে ঝরে পড়া শিশুদের বয়স ও পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে তাদের জন্য উপযোগী শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হলে তারা আবারও শিক্ষার পরিবেশে ফিরতে পারবে।
নান্দাইলের মতো উপজেলা পর্যায়ে প্রশাসন, শিক্ষা বিভাগ ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর সমন্বিত কার্যক্রম আরও জোরদার করা হলে শিক্ষার বাইরে থাকা শিশুদের সংখ্যা কমানো সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সভায় উপস্থিত কর্মকর্তারা বলেন, একটি শিশুও যেন শিক্ষার সুযোগ থেকে বাদ না পড়ে, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্ব নিতে হবে। শিক্ষার আলো প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিতে স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো প্রয়োজন।
আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের এই আলোচনা সভার মাধ্যমে নান্দাইলে শিক্ষার বাইরে থাকা শিশুদের বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনা এবং তাদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়ে নতুন করে গুরুত্বারোপ করা হয়। সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত উদ্যোগে পিছিয়ে পড়া শিশুদের শিক্ষার মূলধারায় ফিরিয়ে আনার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।








