পত্নীতলায় মাদক মামলায় মা গ্রেফতার, বাবার মৃত্যুতে শিশু অসহায়

মোঃ মমিন আলী নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি:
নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলায় এক হৃদয়বিদারক ঘটনা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। তিন বছর আগে বাবাকে হারানোর পর থেকে দুই শিশু মায়ের স্নেহে বড় হচ্ছিল। কিন্তু সম্প্রতি মাদক মামলায় গ্রেফতার মা হয়ে কারাগারে যাওয়ায় শিশুদুটি এখন সম্পূর্ণভাবে অসহায় হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতার হওয়া ওই নারী হলেন শেফালী রানী চৌধুরী। তিনি নওগাঁ জেলার পত্নীতলা উপজেলার মাহমুদপুর এলাকায় বসবাস করতেন। তার বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় এবং পরে তাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়।
তার পূর্ণ ঠিকানা অনুযায়ী— বাসা/হোল্ডিং: ব্রিজের পশ্চিম পাশের, গ্রাম/রাস্তা: মাহমুদপুর, ডাকঘর: পত্নীতলা–৬৫৫০, নজিপুর পৌরসভা, পত্নীতলা, নওগাঁ।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে শিশুদের বাবা মৃত্যুবরণ করেন। তখন থেকেই মা-ই ছিলেন তাদের একমাত্র অভিভাবক। বর্তমানে বড় ছেলে (১২) এবং ছোট মেয়ে (৯) মায়ের অনুপস্থিতিতে চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। স্থানীয় প্রতিবেশীরা মানবিকভাবে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং যতটুকু সম্ভব সহায়তা করছেন।
স্থানীয়রা জানান, বাবার মৃত্যুর পর থেকেই পরিবারটি অনেক কষ্টে চলছিল। এখন পত্নীতলা শিশু অসহায় অবস্থায় পড়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রতিবেশীরা বলেন, “শিশুদুটি এখন একেবারেই অসহায়। আমরা সবাই মিলে তাদের খাবার ও দৈনন্দিন সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছি।”
এলাকাবাসী আরও জানান, শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা চিন্তিত। তারা চান, সরকার ও সংশ্লিষ্ট সমাজসেবা দপ্তর দ্রুত এগিয়ে এসে শিশুদের নিরাপত্তা ও শিক্ষার দায়িত্ব নিক।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার কথা জানিয়েছেন। তারা বলছেন, এত অল্প বয়সে বাবা-মা উভয়কেই হারানো বা বিচ্ছিন্ন হওয়া শিশুদের জন্য অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করে। এ অবস্থায় তাদের পুনর্বাসন ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মাদক মামলায় গ্রেফতার মা সংক্রান্ত মামলার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া আইন অনুযায়ী চলবে। মাদকবিরোধী অভিযান চলমান থাকবে এবং কোনো অপরাধীকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
বর্তমানে শিশুদুটি প্রতিবেশীদের সহায়তায় কোনোভাবে দিন কাটাচ্ছে। তবে তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সরকারি উদ্যোগ না নিলে শিশুদুটির শিক্ষা ও মানসিক বিকাশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।








