বঙ্গোপসাগরে ট্রলার থেকে ৫ লাখ ইয়াবা জব্দ, গ্রেফতার ৯

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা উপকূল সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ইয়াবা পাচারবিরোধী একটি সফল অভিযান পরিচালনা করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৭)। এ অভিযানে একটি ফিশিং ট্রলার থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা জব্দ করা হয় এবং ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধার করা ইয়াবার বাজারমূল্য প্রায় ১৫ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে যে মিয়ানমার থেকে একটি বড় ইয়াবা চালান বঙ্গোপসাগর হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে পতেঙ্গা থানার ১৫ নম্বর ঘাট সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ বঙ্গোপসাগরে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান চলাকালে একটি সন্দেহভাজন ফিশিং ট্রলারকে থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির এক পর্যায়ে ট্রলারের মাছ সংরক্ষণের স্টোররুম থেকে তিনটি বস্তা উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে বস্তাগুলো খুলে দেখা যায়, সেখানে মোট ৫০টি কার্ড রয়েছে। প্রতিটি কার্ডে ১০ হাজার পিস করে মোট ৫ লাখ পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। এটি সাম্প্রতিক সময়ে অন্যতম বড় ইয়াবা পাচার চালান বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ৫ জন রোহিঙ্গা নাগরিক এবং ৪ জন বাংলাদেশি বলে জানিয়েছে র্যাব। তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ মাদক পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত। বিশেষ করে মিয়ানমার থেকে ইয়াবা এনে সমুদ্রপথে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করাই ছিল তাদের মূল কাজ।
শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে র্যাব-৭ এর চান্দগাঁও ক্যাম্পে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান বলেন, মাদকবিরোধী অভিযানে র্যাব জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং দেশের যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এমন ধারাবাহিক অভিযান মাদক নির্মূলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।








