রাঙ্গামাটিতে অভিযানে মাসুদ হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার

এম এস শ্রাবণ মাহমুদ স্টাফ রিপোর্টার
চট্টগ্রামের আলোচিত মাসুদ হত্যা মামলা-এর অন্যতম এজাহারভুক্ত আসামি মোঃ আইয়ুবকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৭। রোববার (২১ জুন) ভোরে রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার দুর্গম দুরছড়ি এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা এই আসামির গ্রেপ্তারকে মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
র্যাব-৭ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আইয়ুবের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার খেদারমারা ইউনিয়নের দুর্গম দুরছড়ি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানের সময় তিনি তার বোনের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন।
গ্রেপ্তারকৃত আইয়ুব চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি আবদুল মোনাফের ছেলে এবং আলোচিত মাসুদ হত্যা মামলা-এর এজাহারভুক্ত ৯ নম্বর আসামি। হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি বিভিন্ন স্থানে অবস্থান পরিবর্তন করছিলেন।
র্যাবের একটি বিশেষ দল দীর্ঘদিন ধরে তার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছিল। গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তিগত নজরদারির মাধ্যমে তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর রোববার ভোর ৬টার দিকে অভিযান পরিচালনা করা হয়। সফল অভিযানের মাধ্যমে আইয়ুব গ্রেপ্তার হওয়ায় মামলার তদন্তে নতুন গতি এসেছে বলে মনে করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে চট্টগ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বাঘাইছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাছির উদ্দিন মজুমদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া র্যাব-৭-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন জানান, যুবদল নেতা মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ৯ নম্বর আসামি মোঃ আইয়ুব আলীকে রাঙ্গামাটি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৩ জুন চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার কদলপুর এলাকায় প্রকাশ্যে সশস্ত্র হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় নিহত হন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং রাজনৈতিক অঙ্গনেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
ঘটনার পর নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে দায়ের করা হত্যা মামলায় ১৯ জনকে আসামি করা হয়। বর্তমানে মামলাটি নিবিড় তদন্তাধীন রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, এ পর্যন্ত একাধিক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি পলাতক আসামিদের ধরতে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।








