আখাউড়া স্থলবন্দরে ভারতে পালানোর সময় হ/ত্যা মামলার আসামি গ্রেফতার

মস্ত মিয়া, বিশেষ প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় ঢাকার আশুলিয়া থানার দুটি হত্যা মামলার আসামি ইদ্রিস আলী (৪০) গ্রেফতার হয়েছেন। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তাকে গ্রেফতার করে আখাউড়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে ইমিগ্রেশন পুলিশ।
ইমিগ্রেশন পুলিশের এই অভিযানের ফলে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে দেশত্যাগের চেষ্টা করা একাধিক মামলার আসামিকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইদ্রিস আলীর বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলা থাকায় তার দেশত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল।
আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শরীফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ইদ্রিস আলী তার ছোট বোন ও ভাগিনাকে সঙ্গে নিয়ে ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে আসেন।
ইমিগ্রেশনের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তার পাসপোর্ট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করা হয়। এ সময় সরকারি ডাটাবেজে তার বিরুদ্ধে থাকা মামলার তথ্য পাওয়া যায়। যাচাই-বাছাই করে দেখা যায়, ঢাকার আশুলিয়া থানায় তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলা রয়েছে। একই সঙ্গে তার দেশত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়টিও সামনে আসে।
পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী ইদ্রিস আলীকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর তাকে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আখাউড়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ইমিগ্রেশন পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ইদ্রিস আলী তার ছোট বোন ও ভাগিনাকে সঙ্গে নিয়ে ভারতে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তবে তার সঙ্গে থাকা বোনের বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা নিষেধাজ্ঞার তথ্য না থাকায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর ইদ্রিস আলীকে একাই পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়।
ইদ্রিস আলী ঢাকার আশুলিয়া থানার জামপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই এলাকার আলী আহম্মদের ছেলে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ঢাকার আশুলিয়া থানায় দায়ের হওয়া একাধিক মামলায় ইদ্রিস আলীকে আসামি করা হয়েছে। এসব মামলার মধ্যে হত্যা মামলাও রয়েছে। এছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতার ওপর হামলা এবং অবৈধ অস্ত্র সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের অভিযোগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আধিপত্য বিস্তার এবং দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়া এবং তদন্তের ফলাফলই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।
আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের ইনচার্জ এসআই মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, ইদ্রিস আলী সকালে ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ইমিগ্রেশনে আসেন। এ সময় তার ডাটাবেজ যাচাই করা হলে একাধিক মামলার তথ্য পাওয়া যায়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে গ্রেফতার করে আখাউড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত এলাকায় ইমিগ্রেশন কার্যক্রমের সময় যাত্রীদের তথ্য নিয়মিতভাবে যাচাই করা হয়। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালতের নিষেধাজ্ঞা, মামলা বা দেশত্যাগে বাধা থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারে।
এ ঘটনায় আবারও স্পষ্ট হয়েছে, আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে দেশত্যাগের ক্ষেত্রে ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে তথ্য যাচাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সরকারি ডাটাবেজে থাকা তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে ইদ্রিস আলীর বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা আটকে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
এদিকে ইদ্রিস আলী গ্রেফতার হওয়ার পর তাকে আশুলিয়া থানার মামলাগুলোর বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ এবং পরবর্তী আইনগত কার্যক্রমের জন্য সংশ্লিষ্ট পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর তদন্ত ও আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারিত হবে।
আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সীমান্ত দিয়ে যাতায়াতের সময় কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত নিষেধাজ্ঞা থাকলে তা যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ইদ্রিস আলীর ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়ায় তথ্য যাচাইয়ের পর তাকে আটক করা হয়েছে।
সংবাদ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ইদ্রিস আলীর বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগগুলো বর্তমানে সংশ্লিষ্ট আইনগত প্রক্রিয়ার বিষয়। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে আইনগতভাবে অভিযুক্ত হিসেবেই বিবেচনা করা হবে।








