চৌবাড়িয়া গরুর হাটে ১০ কোটি টাকার বেচাকেনা, যানজটে ভোগান্তি

নওগাঁর মান্দা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী চৌবাড়িয়া গরুর হাটে প্রতি হাটবারে জমে ওঠে ব্যাপক বেচাকেনা। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা এই হাটে আসেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রতি হাটবারে এই হাটে প্রায় ১০ কোটি টাকার গরু কেনাবেচা হয়। তবে বিপুল বেচাকেনার এই হাটে সরু সংযোগ সেতুর কারণে নিয়মিত তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।
হাটের দিনে গরুবাহী ট্রাক, পিকআপ, অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহনের চাপ বেড়ে যায়। ফলে গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সেতুটি দিয়ে স্বাভাবিকভাবে যান চলাচল করতে পারে না। এতে সেতুর দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ব্যবসায়ী, ক্রেতা, পরিবহন চালক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, চৌবাড়িয়া গরুর হাটে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে গরু নিয়ে ব্যবসায়ীরা আসেন। একই সঙ্গে অনেক ক্রেতাও হাটে আসেন গরু কিনতে। হাটের পরিধি ও বেচাকেনা বাড়লেও সেতুটির প্রশস্ততা আগের মতোই রয়েছে। ফলে হাটবারে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
বিশেষ করে গরুবাহী যানবাহন নিয়ে আসা ব্যবসায়ীদের অনেক সময় এক থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত যানজটে আটকে থাকতে হয়। এতে ব্যবসায়ীদের সময় নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি গরু পরিবহনের ক্ষেত্রেও নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও হাটবারে স্বাভাবিক চলাচল করতে পারছেন না।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি সংকীর্ণ থাকলেও এটি প্রশস্ত বা পুনর্নির্মাণের বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। সময়ের সঙ্গে নওগাঁর গরুর হাট হিসেবে চৌবাড়িয়া হাটের গুরুত্ব বেড়েছে। বেড়েছে ব্যবসায়ী, ক্রেতা ও যানবাহনের সংখ্যাও। কিন্তু সেই তুলনায় যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন হয়নি।
চৌবাড়িয়া গরুর হাটের ইজারাদার লুৎফর রহমান ও নাসির উদ্দীন মণ্ডল বলেন, চৌবাড়িয়া নওগাঁ জেলার অন্যতম বৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী গরুর হাট। হাটের দিনে সেতুটিতে প্রচণ্ড যানজট হয়। ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের ভোগান্তি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটি দ্রুত প্রশস্ত করা প্রয়োজন।
মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আক্তার জাহান সাথী বলেন, চৌবাড়িয়া নওগাঁ জেলার একটি ঐতিহ্যবাহী ও বড় গরুর হাট। হাটের দিনে যানজটের কারণে মানুষের দুর্ভোগ হচ্ছে। যানজট নিরসনে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। পাশাপাশি সেতুটি প্রশস্ত করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে সুপারিশ করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সেতুটি প্রশস্ত ও পুনর্নির্মাণ করা হলে হাটে আসা ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে। একই সঙ্গে হাটকেন্দ্রিক যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হবে। এতে প্রায় ১০ কোটি টাকার বেচাকেনার এই ঐতিহ্যবাহী হাটের ব্যবসায়িক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আশা করছেন তারা।








