বিরামপুরের কুন্দনহাটে প্রকাশ্যে যুবককে মারধর ও ছিনতাই ঘটনা

দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলার কুন্দনহাট এলাকায় প্রকাশ্যে এক ভয়াবহ হামলা ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় একজন যুবক গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ জুন ২০২৬ তারিখ দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে কুন্দনহাট এলাকার বাসিন্দা মোঃ শিমুল (৩৭) তার চাচা মোঃ সরোয়ার্দী হোসেন হিটলারকে সঙ্গে নিয়ে ট্রাক্টরের যন্ত্রাংশ কেনার উদ্দেশ্যে মোটরসাইকেলে করে বিরামপুর শহরের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে কুন্দনগ্রামের একটি রাইস মিলের সামনে পৌঁছালে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাদের গতিরোধ করে।
এ সময় হামলাকারীরা লোহার রড, পাইপ ও বাঁশের লাঠি দিয়ে শিমুলের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। এতে তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তার চাচাকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
ঘটনার সময় হামলাকারীরা শিমুলের পকেটে থাকা ট্রাক্টরের যন্ত্রাংশ কেনার জন্য রাখা নগদ ৮০ হাজার টাকা এবং একটি স্মার্টফোন ছিনিয়ে নেয় বলে দাবি করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করে বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। চিকিৎসকরা জানান, শিমুলের মাথায় গুরুতর আঘাতের কারণে সেলাই দিতে হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
এ ঘটনায় এলাকায় বিরামপুর ছিনতাই এবং কুন্দনহাট হামলা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, হামলাকারীরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছে এবং তারা যেকোনো সময় আরও বড় ধরনের সহিংস ঘটনা ঘটাতে পারে।
পরিবারটি দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। তাদের দাবি, হামলাকারীরা শুধু অর্থ ও মোবাইল ছিনতাই করেনি, বরং ভবিষ্যতে হত্যার হুমকিও দিয়েছে, যা পুরো এলাকাকে আতঙ্কিত করে তুলেছে।
এ বিষয়ে বিরামপুর থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, এ ধরনের প্রকাশ্য হামলা ও ছিনতাই রোধে প্রশাসনের আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন, নইলে এলাকায় অপরাধ প্রবণতা বাড়তে পারে।








