রঘুপুর বিদ্যালয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিরলে বিক্ষোভ

সাদেকুল ইসলাম, বিরল (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের বিরলে রঘুপুর দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি, প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষক-কর্মচারীদের ওপর হামলা, লাঞ্ছনা ও হয়রানির প্রতিবাদে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। উপজেলা শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের উদ্যোগে মঙ্গলবার বিকেলে এসব কর্মসূচি পালন করা হয়।
এ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিরল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় শিক্ষক-কর্মচারীদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। পরে উপজেলা শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের ব্যানারে সেখানে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে শিক্ষক-কর্মচারীরা হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।
মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বিরল পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় শিক্ষক-কর্মচারীরা তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার দাবি জানান।
প্রতিবাদ সমাবেশে যা বললেন শিক্ষক নেতারা
মানববন্ধন শেষে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিরল উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও বিরল আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আনিছুর জামান মিলন।
সমাবেশে বক্তব্য দেন দিনাজপুর জেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি শহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান, শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের জেলা সভাপতি কাজী আব্দুর রহিম, জেলা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্মচারী সমিতির সভাপতি ইসাহাক আলী, সাধারণ সম্পাদক রশিদ, শিক্ষক সমিতির সদর উপজেলা সভাপতি আজিজার রহমান, বোচাগঞ্জ উপজেলা শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি মাজেদুর রহমান পাপ্পু, মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির সদর উপজেলা সভাপতি জামিলুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মুনছেফ আলীসহ স্থানীয় শিক্ষক নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, গত ৩ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে সভাপতি ও শিক্ষক-কর্মচারীদের ওপর হামলার ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তারা বলেন, শিক্ষকদের কর্মস্থলে যদি নিরাপত্তা না থাকে, তাহলে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশও ব্যাহত হবে।
সমাবেশ থেকে শিক্ষক নেতারা হামলার সঙ্গে জড়িত সব আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
শিক্ষক নেতারা আরও বলেন, শিক্ষক-কর্মচারীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা জরুরি। শিক্ষাঙ্গনে হামলা, লাঞ্ছনা বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো ঘটনা বন্ধ করতে প্রশাসনকে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে শিক্ষক সমাজের মর্যাদা ও নিরাপত্তা রক্ষায় আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারিও দেন তারা।
ইউএনওর কাছে স্মারকলিপি
মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল শেষে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের নেতৃবৃন্দ বিরল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ রেজাউল ইসলামের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।
স্মারকলিপিতে শিক্ষক-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। শিক্ষক নেতারা আশা প্রকাশ করেন, প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
যেভাবে হামলার ঘটনা ঘটে
উল্লেখ্য, গত ৩ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার ৭ নম্বর বিজোড়া ইউনিয়নের রঘুপুর দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে এডহক কমিটির নবনিযুক্ত সভাপতি সুলতান চৌধুরীর আগমন ও বরণ অনুষ্ঠান চলছিল। এ সময় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলায় নতুন সভাপতি সুলতান চৌধুরী গুরুতর আহত হন বলে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে বিরল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষক-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে হামলার প্রতিবাদে কর্মসূচি পালন করা হয়।
এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মমিন উদ্দীন বাদী হয়ে বিরল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া আরও ৩০ থেকে ৪০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি বিরল থানায় মামলা নম্বর-০২ হিসেবে ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে দায়ের করা হয়।
শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের নেতারা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে তার নেতিবাচক প্রভাব শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবক সবার ওপর পড়ে। তাই দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
তারা আরও বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ রাখতে প্রশাসন, শিক্ষক, অভিভাবক এবং স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত ভূমিকা দরকার। ভবিষ্যতে যেন কোনো শিক্ষক বা কর্মচারী কর্মস্থলে হামলা বা হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।








