বাংলাদেশ , বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
গৌরনদীতে গাঁজাসহ আটক, ভ্রাম্যমাণ আদালতে তিন মাস কারাদণ্ড নানিয়ারচর সেনা জোনে পরিবেশ সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ময়মনসিংহে মিথ্যা মামলা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে তোলপাড় রায়পুরায় আধিপত্য বিস্তারের সংঘর্ষে যুবক নিহত, আহত অন্তত ১০ ময়মনসিংহে এসএসসি জিপিএ-৫ শিক্ষার্থীদের আইজিপি বৃত্তি প্রদান ঠাকুরগাঁওয়ে অবৈধ বালু উত্তোলনে মোবাইল কোর্টের ৯০ হাজার জরিমানা ফুলবাড়ী সীমান্তে বিজিবির অভিযানে বিপুল মাদক ও সিরাপ উদ্ধার রাজাপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পে মাদক বিরোধী অভিযান: ৪ কেজি গাঁজাসহ আটক ১ বিদেশে চাকরির প্রলোভনে ১৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার চট্টগ্রামে সম্পত্তি বিরোধে বাবাকে হত্যা করে ছেলে গ্রেপ্তার হলো
সর্বাধিক পঠিত
গৌরনদীতে গাঁজাসহ আটক, ভ্রাম্যমাণ আদালতে তিন মাস কারাদণ্ড নানিয়ারচর সেনা জোনে পরিবেশ সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ময়মনসিংহে মিথ্যা মামলা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে তোলপাড় রায়পুরায় আধিপত্য বিস্তারের সংঘর্ষে যুবক নিহত, আহত অন্তত ১০ ময়মনসিংহে এসএসসি জিপিএ-৫ শিক্ষার্থীদের আইজিপি বৃত্তি প্রদান ঠাকুরগাঁওয়ে অবৈধ বালু উত্তোলনে মোবাইল কোর্টের ৯০ হাজার জরিমানা ফুলবাড়ী সীমান্তে বিজিবির অভিযানে বিপুল মাদক ও সিরাপ উদ্ধার রাজাপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পে মাদক বিরোধী অভিযান: ৪ কেজি গাঁজাসহ আটক ১ বিদেশে চাকরির প্রলোভনে ১৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার চট্টগ্রামে সম্পত্তি বিরোধে বাবাকে হত্যা করে ছেলে গ্রেপ্তার হলো

লিচু-আম-কাঁঠালের বাম্পার ফলনে মুখর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গ্রামাঞ্চল আজ

জাহাঙ্গীর আলম, জেলা প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

১৩ জুন ২০২৬ চলতি মৌসুমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাম্পার ফলন হওয়ায় জেলার বিজয়নগর ও আখাউড়া উপজেলাজুড়ে আনন্দের আমেজ বিরাজ করছে। বিশেষ করে লিচু, আম ও কাঁঠালের উৎপাদন প্রত্যাশার চেয়েও বেশি হওয়ায় কৃষক, বাগান মালিক এবং ফল ব্যবসায়ীরা বেশ সন্তুষ্ট। একই সঙ্গে বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় সাধারণ ক্রেতারাও তুলনামূলক কম দামে মৌসুমি ফল কিনতে পারছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিজয়নগর উপজেলার মুকুন্দপুর, সেজামুর, কালাছড়া, বিষ্ণুপুর ও আজমপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় এবং আখাউড়া উপজেলার একাধিক গ্রামে এ বছর ফলের বাগানগুলোতে ব্যাপক উৎপাদন হয়েছে। বাগানগুলোতে গাছে গাছে ঝুলছে পাকা লিচু, রসালো আম এবং সুস্বাদু কাঁঠাল। ফলে এলাকাজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

বাগান মালিকদের মতে, সময়মতো পরিচর্যা, পর্যাপ্ত বৃষ্টি এবং অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ বছর ফলের উৎপাদন অনেক ভালো হয়েছে। এছাড়া রোগবালাই তুলনামূলক কম থাকায় ফলের ক্ষতি কম হয়েছে। ফলে উৎপাদন খরচের তুলনায় লাভের পরিমাণও বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

স্থানীয় এক বাগান মালিক বলেন, “গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার ফলন অনেক ভালো হয়েছে। গাছগুলোতে প্রচুর ফল ধরেছে। বাজারে ভালো দাম পেলে আমরা লাভবান হবো বলে আশা করছি।”

এদিকে লিচু আম ও কাঁঠালের বাম্পার ফলন বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। পর্যাপ্ত সরবরাহের কারণে ফলের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। এতে সাধারণ ক্রেতারা সহজেই মৌসুমি ফল কিনতে পারছেন। বিশেষ করে পরিবার নিয়ে ফল উপভোগ করতে পারায় অনেকেই সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

ফল ব্যবসায়ীরা জানান, স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জেলার বাইরে বিভিন্ন এলাকাতেও ফল সরবরাহ করা হচ্ছে। এর ফলে কৃষকদের পাশাপাশি পরিবহন, বিপণন ও খুচরা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত মানুষও আর্থিকভাবে উপকৃত হচ্ছেন।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার, উন্নত জাতের চারা রোপণ এবং নিয়মিত পরিচর্যার ফলে ফলন বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা মনে করেন, কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতেও এমন সফলতা ধরে রাখা সম্ভব হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাম্পার ফলন শুধু কৃষকদের আয় বৃদ্ধি করবে না, বরং স্থানীয় অর্থনীতিকেও আরও শক্তিশালী করবে। কৃষিভিত্তিক এই অঞ্চলে ফল চাষের প্রসার কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং গ্রামীণ অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সব মিলিয়ে বিজয়নগর ও আখাউড়ায় লিচু আম ও কাঁঠালের বাম্পার ফলন কৃষক, ব্যবসায়ী ও ক্রেতা—সবার জন্যই সুখবর হয়ে এসেছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, আগামী বছরগুলোতেও অনুকূল পরিবেশ ও যথাযথ পরিচর্যার মাধ্যমে এ ধারা অব্যাহত থাকবে।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক সম্পর্কিত তথ্য
আপডেটের সময় : ১২:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
২২ সময় দৃশ্য

লিচু-আম-কাঁঠালের বাম্পার ফলনে মুখর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গ্রামাঞ্চল আজ

আপডেটের সময় : ১২:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

জাহাঙ্গীর আলম, জেলা প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

১৩ জুন ২০২৬ চলতি মৌসুমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাম্পার ফলন হওয়ায় জেলার বিজয়নগর ও আখাউড়া উপজেলাজুড়ে আনন্দের আমেজ বিরাজ করছে। বিশেষ করে লিচু, আম ও কাঁঠালের উৎপাদন প্রত্যাশার চেয়েও বেশি হওয়ায় কৃষক, বাগান মালিক এবং ফল ব্যবসায়ীরা বেশ সন্তুষ্ট। একই সঙ্গে বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় সাধারণ ক্রেতারাও তুলনামূলক কম দামে মৌসুমি ফল কিনতে পারছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিজয়নগর উপজেলার মুকুন্দপুর, সেজামুর, কালাছড়া, বিষ্ণুপুর ও আজমপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় এবং আখাউড়া উপজেলার একাধিক গ্রামে এ বছর ফলের বাগানগুলোতে ব্যাপক উৎপাদন হয়েছে। বাগানগুলোতে গাছে গাছে ঝুলছে পাকা লিচু, রসালো আম এবং সুস্বাদু কাঁঠাল। ফলে এলাকাজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

বাগান মালিকদের মতে, সময়মতো পরিচর্যা, পর্যাপ্ত বৃষ্টি এবং অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ বছর ফলের উৎপাদন অনেক ভালো হয়েছে। এছাড়া রোগবালাই তুলনামূলক কম থাকায় ফলের ক্ষতি কম হয়েছে। ফলে উৎপাদন খরচের তুলনায় লাভের পরিমাণও বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

স্থানীয় এক বাগান মালিক বলেন, “গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার ফলন অনেক ভালো হয়েছে। গাছগুলোতে প্রচুর ফল ধরেছে। বাজারে ভালো দাম পেলে আমরা লাভবান হবো বলে আশা করছি।”

এদিকে লিচু আম ও কাঁঠালের বাম্পার ফলন বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। পর্যাপ্ত সরবরাহের কারণে ফলের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। এতে সাধারণ ক্রেতারা সহজেই মৌসুমি ফল কিনতে পারছেন। বিশেষ করে পরিবার নিয়ে ফল উপভোগ করতে পারায় অনেকেই সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

ফল ব্যবসায়ীরা জানান, স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জেলার বাইরে বিভিন্ন এলাকাতেও ফল সরবরাহ করা হচ্ছে। এর ফলে কৃষকদের পাশাপাশি পরিবহন, বিপণন ও খুচরা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত মানুষও আর্থিকভাবে উপকৃত হচ্ছেন।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার, উন্নত জাতের চারা রোপণ এবং নিয়মিত পরিচর্যার ফলে ফলন বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা মনে করেন, কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতেও এমন সফলতা ধরে রাখা সম্ভব হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাম্পার ফলন শুধু কৃষকদের আয় বৃদ্ধি করবে না, বরং স্থানীয় অর্থনীতিকেও আরও শক্তিশালী করবে। কৃষিভিত্তিক এই অঞ্চলে ফল চাষের প্রসার কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং গ্রামীণ অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সব মিলিয়ে বিজয়নগর ও আখাউড়ায় লিচু আম ও কাঁঠালের বাম্পার ফলন কৃষক, ব্যবসায়ী ও ক্রেতা—সবার জন্যই সুখবর হয়ে এসেছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, আগামী বছরগুলোতেও অনুকূল পরিবেশ ও যথাযথ পরিচর্যার মাধ্যমে এ ধারা অব্যাহত থাকবে।