আপস-মীমাংসার পর জামিনে মুক্ত সাংবাদিক রেজানুর ইসলাম

এনামুল হক রাশেদী, স্টাফ রিপোর্টারঃ
বগুড়ায় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে ঘিরে অপপ্রচার ও মানহানিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিনের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মো. রেজানুর ইসলামের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। এ ঘটনায় প্রতিমন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ এবং উভয় পক্ষের আপস-মীমাংসা নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
রোববার (২১ জুন) বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-১ (সদর আমলি আদালত) এর বিচারক মেহেদী হাসান সাংবাদিক রেজানুর ইসলামের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বগুড়া আদালতের পরিদর্শক শহিদুল ইসলাম।
রেজানুর ইসলামের আইনজীবী তানজীম আল মিসবাহ জানান, আদালতে জামিন আবেদন দাখিলের পর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিকালে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুল ওহাব আদালতকে জানান, ভুল বোঝাবুঝির কারণে মামলাটি দায়ের হয়েছিল এবং পরবর্তীতে দুই পক্ষের মধ্যে আপস-মীমাংসা হয়েছে। বাদীপক্ষও আসামির জামিনের পক্ষে মত দেয়।
বাদীপক্ষের আইনজীবী আবদুল ওহাব বলেন, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে জড়িয়ে অপপ্রচার ও মানহানিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে মামলা দায়ের হলেও এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে অবগত ছিলেন না। মামলার সঙ্গে তাঁর কোনো প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততাও ছিল না। তিনি ইতোমধ্যে এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছেন, তাঁর নাম ব্যবহার করে বা তাঁর পক্ষে দাবি করে কেউ যেন ব্যক্তিগত উদ্যোগে মামলা বা অন্য কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করেন।
এদিকে প্রতিমন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। রেজানুর ইসলাম গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনায় প্রতিমন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁর নির্দেশনায় উভয় পক্ষের মধ্যে সংলাপের মাধ্যমে বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান হয় এবং সাংবাদিকের জামিন নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে বগুড়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গাজীপুরের জয়দেবপুর এলাকা থেকে রেজানুর ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। শুক্রবার বিকেলে তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে নিয়ে মানহানিকর তথ্য প্রচার ও চাঁদা দাবির অভিযোগে সাইবার সুরক্ষা আইনে রেজানুর ইসলামসহ ছয় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। মামলার বাদী ছিলেন স্থানীয় দৈনিক মহাস্থান পত্রিকার সম্পাদক ও বগুড়া প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ তানভীর আলম।
এ ঘটনায় দেশের বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন, গণমাধ্যমকর্মী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা প্রতিক্রিয়া জানান। তাঁদের অনেকেই মনে করেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি গণমাধ্যম অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিমন্ত্রীর অবস্থান, দুঃখ প্রকাশ এবং পরবর্তীতে আপস-মীমাংসার মাধ্যমে সমাধান হওয়া ঘটনাটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অনেকে।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, মতপার্থক্য ও অভিযোগের ক্ষেত্রে সংলাপ, আইনের সঠিক প্রয়োগ এবং পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে সমাধান খোঁজা গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। রেজানুর ইসলামের জামিনের ঘটনায় সেই বার্তাই আবারও সামনে এসেছে।








