ইয়াবা গায়েব তদন্তে কোতোয়ালি থানার ওসি আফতাব উদ্দিন প্রত্যাহার

মোঃ দিদারুল ইসলাম, চট্টগ্রামঃ
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফতাব উদ্দিনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রত্যাহার করা হয়েছে। কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামে আনার পথে জব্দ করা বিপুল পরিমাণ ইয়াবা গায়েবের অভিযোগকে কেন্দ্র করে চলমান ইয়াবা গায়েব তদন্ত-এর অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।
সিএমপি সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পর অভ্যন্তরীণ তদন্তে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ১৭ জুন (বুধবার) সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, তদন্তের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা রক্ষায় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
একই ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন পুলিশ পরিদর্শক জায়েদ নূর। তাকে থানার নতুন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। প্রশাসনিক এ পরিবর্তনের মাধ্যমে থানার কার্যক্রম স্বাভাবিক ও গতিশীল রাখার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে সিএমপি।
এর আগে এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বাকলিয়া থানার সাবেক তদন্ত কর্মকর্তা তানভীর হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পাশাপাশি পুলিশের একাধিক সদস্যের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুরো বিষয়টি বর্তমানে পুলিশ সদর দপ্তরের উচ্চপর্যায়ের তদন্তাধীন রয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় ২০২৫ সালের ৮ ডিসেম্বর রাতে, যখন কক্সবাজার জেলা পুলিশের এক কনস্টেবলকে চট্টগ্রামের বাকলিয়া নতুন ব্রিজ এলাকায় একটি বাস থেকে নামিয়ে তল্লাশি করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, তার ব্যাগ থেকে প্রায় ৯০ হাজার থেকে এক লাখ ইয়াবা জব্দ করা হয়েছিল। তবে পরে অভিযোগ ওঠে, সেই ইয়াবা যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করে সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
পরবর্তীতে সিএমপি গঠিত তদন্ত কমিটি প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা পাওয়ার দাবি করে। তবে আদালতের নির্দেশে পরিচালিত পৃথক তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ইয়াবা জব্দের বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ও অকাট্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। যদিও দায়িত্বে অবহেলা ও পেশাগত অদক্ষতার বিষয়টি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভেতরে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। সিএমপি ওসি প্রত্যাহার বিষয়টি এখন প্রশাসনিক তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।








