বাংলাদেশ , শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
সর্বাধিক পঠিত

কাবার গিলাফে মুখতার আলম, বাংলাদেশের গৌরব

মক্কার পবিত্র কাবা শরিফের গিলাফে সোনালি সুতোয় খচিত পবিত্র কোরআনের আয়াত ও মনোমুগ্ধকর আরবি ক্যালিগ্রাফি বিশ্ব মুসলিমের কাছে শ্রদ্ধা, ভালোবাসা এবং আধ্যাত্মিক সৌন্দর্যের প্রতীক। এই অসাধারণ শিল্পকর্মের অন্যতম প্রধান রূপকার হলেন বাংলাদেশের চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার কৃতি সন্তান মুখতার আলম সিকদার। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি কাবা শরিফের গিলাফ তৈরির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সুনাম বৃদ্ধি করে চলেছেন।

বিশ্ববিখ্যাত কাবা শরিফের গিলাফ তৈরির দায়িত্ব অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতি বছর নতুন কিসওয়া বা গিলাফ প্রস্তুত করা হয়, যেখানে পবিত্র কোরআনের আয়াত, দোয়া এবং ইসলামী বাণী অত্যন্ত নান্দনিকভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়। এই জটিল ও সূক্ষ্ম কাজের অন্যতম প্রধান কারিগর মুখতার আলম বর্তমানে সৌদি আরবের মক্কায় অবস্থিত কিং আবদুল আজিজ কমপ্লেক্স ফর দ্য হোলি কাবা কিসওয়া-এ প্রধান ক্যালিগ্রাফার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় জন্ম নেওয়া মুখতার আলম ছোটবেলা থেকেই শিল্পচর্চা ও আরবি ক্যালিগ্রাফির প্রতি গভীর আগ্রহী ছিলেন। উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি সৌদি আরবে পাড়ি জমান এবং মক্কার উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৯২ সালে চারুকলায় স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর ২০০১ সালে আরবি ক্যালিগ্রাফিতে বিশেষায়িত স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। পরে তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার কাজেও যুক্ত হন।

শিক্ষাজীবন শেষে ১৯৯৫ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা শিক্ষা বিভাগে ক্যালিগ্রাফির শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার অসাধারণ প্রতিভা ও দক্ষতা দ্রুতই সৌদি আরবের শিল্প ও ধর্মীয় অঙ্গনে প্রশংসিত হয়।

২০০২ সালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কাবা শরিফের গিলাফ তৈরির কারখানায় ক্যালিগ্রাফার হিসেবে যোগ দেন। এরপর থেকে তিনি কিসওয়ার নকশা, ক্যালিগ্রাফিক বিন্যাস এবং কোরআনের আয়াতের শিল্পসম্মত উপস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। বর্তমানে তার তত্ত্বাবধানে গিলাফের বিভিন্ন অংশে ব্যবহৃত ক্যালিগ্রাফির নকশা প্রস্তুত করা হয়।

কাবার গিলাফ তৈরিতে প্রতি বছর প্রায় ৬৭০ কেজি প্রাকৃতিক রেশম, ১২০ কেজির বেশি স্বর্ণের সুতা এবং প্রায় ১০০ কেজি রুপার সুতা ব্যবহার করা হয়। এই ব্যয়বহুল ও সূক্ষ্ম শিল্পকর্মে দক্ষ ক্যালিগ্রাফারদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই দায়িত্ব সফলভাবে পালন করে মুখতার আলম বিশ্ব মুসলিম সমাজে বাংলাদেশের মর্যাদা আরও উঁচুতে নিয়ে গেছেন।

সম্প্রতি ইসলামী ক্যালিগ্রাফিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি সৌদি আরবের নাগরিকত্ব লাভ করেছেন। এটি শুধু তার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং বাংলাদেশের জন্যও এক বিরল সম্মান।

চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উঠে এসে ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র স্থাপনার গিলাফে কোরআনের আয়াত অঙ্কনের মতো মর্যাদাপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে মুখতার আলম সিকদার আজ কোটি মুসলমানের অনুপ্রেরণার নাম। তার এই সাফল্য বাংলাদেশের জন্য এক অনন্য গৌরব ও সম্মানের প্রতীক।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক সম্পর্কিত তথ্য
আপডেটের সময় : ২ ঘন্টা আগে
১৯ সময় দৃশ্য

কাবার গিলাফে মুখতার আলম, বাংলাদেশের গৌরব

আপডেটের সময় : ২ ঘন্টা আগে

মক্কার পবিত্র কাবা শরিফের গিলাফে সোনালি সুতোয় খচিত পবিত্র কোরআনের আয়াত ও মনোমুগ্ধকর আরবি ক্যালিগ্রাফি বিশ্ব মুসলিমের কাছে শ্রদ্ধা, ভালোবাসা এবং আধ্যাত্মিক সৌন্দর্যের প্রতীক। এই অসাধারণ শিল্পকর্মের অন্যতম প্রধান রূপকার হলেন বাংলাদেশের চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার কৃতি সন্তান মুখতার আলম সিকদার। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি কাবা শরিফের গিলাফ তৈরির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সুনাম বৃদ্ধি করে চলেছেন।

বিশ্ববিখ্যাত কাবা শরিফের গিলাফ তৈরির দায়িত্ব অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতি বছর নতুন কিসওয়া বা গিলাফ প্রস্তুত করা হয়, যেখানে পবিত্র কোরআনের আয়াত, দোয়া এবং ইসলামী বাণী অত্যন্ত নান্দনিকভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়। এই জটিল ও সূক্ষ্ম কাজের অন্যতম প্রধান কারিগর মুখতার আলম বর্তমানে সৌদি আরবের মক্কায় অবস্থিত কিং আবদুল আজিজ কমপ্লেক্স ফর দ্য হোলি কাবা কিসওয়া-এ প্রধান ক্যালিগ্রাফার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় জন্ম নেওয়া মুখতার আলম ছোটবেলা থেকেই শিল্পচর্চা ও আরবি ক্যালিগ্রাফির প্রতি গভীর আগ্রহী ছিলেন। উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি সৌদি আরবে পাড়ি জমান এবং মক্কার উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৯২ সালে চারুকলায় স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর ২০০১ সালে আরবি ক্যালিগ্রাফিতে বিশেষায়িত স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। পরে তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার কাজেও যুক্ত হন।

শিক্ষাজীবন শেষে ১৯৯৫ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা শিক্ষা বিভাগে ক্যালিগ্রাফির শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার অসাধারণ প্রতিভা ও দক্ষতা দ্রুতই সৌদি আরবের শিল্প ও ধর্মীয় অঙ্গনে প্রশংসিত হয়।

২০০২ সালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কাবা শরিফের গিলাফ তৈরির কারখানায় ক্যালিগ্রাফার হিসেবে যোগ দেন। এরপর থেকে তিনি কিসওয়ার নকশা, ক্যালিগ্রাফিক বিন্যাস এবং কোরআনের আয়াতের শিল্পসম্মত উপস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। বর্তমানে তার তত্ত্বাবধানে গিলাফের বিভিন্ন অংশে ব্যবহৃত ক্যালিগ্রাফির নকশা প্রস্তুত করা হয়।

কাবার গিলাফ তৈরিতে প্রতি বছর প্রায় ৬৭০ কেজি প্রাকৃতিক রেশম, ১২০ কেজির বেশি স্বর্ণের সুতা এবং প্রায় ১০০ কেজি রুপার সুতা ব্যবহার করা হয়। এই ব্যয়বহুল ও সূক্ষ্ম শিল্পকর্মে দক্ষ ক্যালিগ্রাফারদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই দায়িত্ব সফলভাবে পালন করে মুখতার আলম বিশ্ব মুসলিম সমাজে বাংলাদেশের মর্যাদা আরও উঁচুতে নিয়ে গেছেন।

সম্প্রতি ইসলামী ক্যালিগ্রাফিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি সৌদি আরবের নাগরিকত্ব লাভ করেছেন। এটি শুধু তার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং বাংলাদেশের জন্যও এক বিরল সম্মান।

চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উঠে এসে ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র স্থাপনার গিলাফে কোরআনের আয়াত অঙ্কনের মতো মর্যাদাপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে মুখতার আলম সিকদার আজ কোটি মুসলমানের অনুপ্রেরণার নাম। তার এই সাফল্য বাংলাদেশের জন্য এক অনন্য গৌরব ও সম্মানের প্রতীক।