বাংলাদেশ , বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
সর্বাধিক পঠিত

গ্রাফিতি বিতর্ক ঘিরে উত্তপ্ত চট্টগ্রাম, মাঠে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন

চট্টগ্রাম নগরে গ্রাফিতি অপসারণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। নগরের টাইগারপাস, লালখান বাজার ও দেওয়ানহাট এলাকায় সোমবার (১৮ মে) সকাল থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) জিইসি মোড় থেকে দেওয়ানহাট ফ্লাইওভার পর্যন্ত সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল ও মিটিং নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।

সিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশ, ১৯৭৮-এর ৩০ ধারার ক্ষমতাবলে জারি করা এই নির্দেশনা ১৮ মে থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

সোমবার সকালে সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীর স্বাক্ষরিত গণবিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়। এরপর থেকেই টাইগারপাস ও আশপাশের এলাকায় পুলিশের টহল জোরদার করা হয়। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের অবস্থান নিতে দেখা গেছে। সাধারণ মানুষের মাঝেও চাপা উদ্বেগ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ পূর্ণ প্রস্তুতিতে রয়েছে। তিনি সবাইকে শান্ত থাকার এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণ করার আহ্বান জানান।

এদিকে, চট্টগ্রামে গ্রাফিতি বিতর্ক নিয়ে মুখ খুলেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি দাবি করেন, নগরের কোথাও জুলাই আন্দোলনের গ্রাফিতি মুছে ফেলার নির্দেশ তিনি দেননি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পোস্টার অপসারণ করেছেন। সেখানে মূলত পোস্টার ছিল, গ্রাফিতি নয়।

রোববার রাতে লালখানবাজার থেকে দেওয়ানহাট পর্যন্ত শহীদ ওয়াসিম আক্তার ফ্লাইওভারের নিচে নতুন রং ও বিজ্ঞাপনের নোটিশ লাগানোকে কেন্দ্র করে বিরোধ শুরু হয়। এনসিপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত গ্রাফিতি মুছে ফেলে বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপনের জন্য জায়গা ভাড়া দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এই অভিযোগের প্রতিবাদে রাত থেকে নগর ভবনের সামনে বিক্ষোভ শুরু হয়। একপর্যায়ে সড়ক অবরোধ করে নতুন করে গ্রাফিতি আঁকা শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। পরে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা ও পাল্টাপাল্টি স্লোগানের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

বর্তমানে জিইসি-দেওয়ানহাট সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণার পর পুরো এলাকায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক সম্পর্কিত তথ্য
আপডেটের সময় : ১০:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
২৬ সময় দৃশ্য

গ্রাফিতি বিতর্ক ঘিরে উত্তপ্ত চট্টগ্রাম, মাঠে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন

আপডেটের সময় : ১০:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

চট্টগ্রাম নগরে গ্রাফিতি অপসারণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। নগরের টাইগারপাস, লালখান বাজার ও দেওয়ানহাট এলাকায় সোমবার (১৮ মে) সকাল থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) জিইসি মোড় থেকে দেওয়ানহাট ফ্লাইওভার পর্যন্ত সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল ও মিটিং নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।

সিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশ, ১৯৭৮-এর ৩০ ধারার ক্ষমতাবলে জারি করা এই নির্দেশনা ১৮ মে থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

সোমবার সকালে সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীর স্বাক্ষরিত গণবিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়। এরপর থেকেই টাইগারপাস ও আশপাশের এলাকায় পুলিশের টহল জোরদার করা হয়। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের অবস্থান নিতে দেখা গেছে। সাধারণ মানুষের মাঝেও চাপা উদ্বেগ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ পূর্ণ প্রস্তুতিতে রয়েছে। তিনি সবাইকে শান্ত থাকার এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণ করার আহ্বান জানান।

এদিকে, চট্টগ্রামে গ্রাফিতি বিতর্ক নিয়ে মুখ খুলেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি দাবি করেন, নগরের কোথাও জুলাই আন্দোলনের গ্রাফিতি মুছে ফেলার নির্দেশ তিনি দেননি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পোস্টার অপসারণ করেছেন। সেখানে মূলত পোস্টার ছিল, গ্রাফিতি নয়।

রোববার রাতে লালখানবাজার থেকে দেওয়ানহাট পর্যন্ত শহীদ ওয়াসিম আক্তার ফ্লাইওভারের নিচে নতুন রং ও বিজ্ঞাপনের নোটিশ লাগানোকে কেন্দ্র করে বিরোধ শুরু হয়। এনসিপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত গ্রাফিতি মুছে ফেলে বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপনের জন্য জায়গা ভাড়া দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এই অভিযোগের প্রতিবাদে রাত থেকে নগর ভবনের সামনে বিক্ষোভ শুরু হয়। একপর্যায়ে সড়ক অবরোধ করে নতুন করে গ্রাফিতি আঁকা শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। পরে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা ও পাল্টাপাল্টি স্লোগানের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

বর্তমানে জিইসি-দেওয়ানহাট সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণার পর পুরো এলাকায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।