বাংলাদেশ , বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
সর্বাধিক পঠিত

বিরামপুরে নাবালিকা অপহরণ, মেয়েকে ফিরে চায় পরিবার

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় এক নাবালিকা স্কুলছাত্রী অপহরণের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন পার হলেও ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করতে না পারায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছে পরিবার এবং স্থানীয় বাসিন্দারা। এ ঘটনায় আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, উপজেলার শৈলান গ্রামের বাসিন্দা মোঃ রব্বানীর ১৪ বছর বয়সী মেয়ে মোছাঃ কনিকা আক্তার মৌ স্থানীয় কাটলা হাইস্কুলের ৭ম শ্রেণির ছাত্রী। তার বাবা-মা জীবিকার তাগিদে ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরি করায় মেয়েটি গ্রামের বাড়িতে নানীর সঙ্গে বসবাস করত।

পরিবারের দাবি, স্থানীয় যুবক নয়ন ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে ওই স্কুলছাত্রীকে উত্যক্ত করত এবং প্রেমের প্রস্তাব দিত। বিষয়টি পরিবার জানতে পেরে তাকে সতর্ক করলেও সে বিরত হয়নি। পরে গত ৩ এপ্রিল সকালে নানী বাড়িতে না থাকার সুযোগে কয়েকজন সহযোগী নিয়ে বাড়ির সামনে আসে অভিযুক্তরা। অভিযোগ রয়েছে, তারা মেয়েটিকে জোরপূর্বক একটি সাদা মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়।

পরিবার জানায়, ঘটনার সময় এক আত্মীয় চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসে। তবে তার আগেই অভিযুক্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এরপর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও এখন পর্যন্ত ওই শিক্ষার্থীর সন্ধান পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় আদালতে দিনাজপুর অপহরণ মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় চারজনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বাদীপক্ষ আদালতে ভিকটিমের জন্মনিবন্ধনের কপি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করেছে, ঘটনার পর বিরামপুর থানায় গেলে মামলা নিতে গড়িমসি করা হয় এবং আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭/৩০ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।

এদিকে বিরামপুরে নাবালিকা অপহরণ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত মেয়েটিকে উদ্ধার এবং জড়িতদের গ্রেফতার করতে হবে। তারা মনে করছেন, প্রশাসনের আরও দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

বিরামপুর থানার মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই এনামুল হক বলেন, “ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চলছে।”

বর্তমানে ভুক্তভোগী পরিবার আদালতের পরবর্তী নির্দেশনা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছে। পরিবারটির একটাই দাবি, দ্রুত তাদের মেয়েকে জীবিত ও নিরাপদ অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া হোক।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক সম্পর্কিত তথ্য
আপডেটের সময় : ০৬:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
১৯ সময় দৃশ্য

বিরামপুরে নাবালিকা অপহরণ, মেয়েকে ফিরে চায় পরিবার

আপডেটের সময় : ০৬:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় এক নাবালিকা স্কুলছাত্রী অপহরণের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন পার হলেও ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করতে না পারায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছে পরিবার এবং স্থানীয় বাসিন্দারা। এ ঘটনায় আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, উপজেলার শৈলান গ্রামের বাসিন্দা মোঃ রব্বানীর ১৪ বছর বয়সী মেয়ে মোছাঃ কনিকা আক্তার মৌ স্থানীয় কাটলা হাইস্কুলের ৭ম শ্রেণির ছাত্রী। তার বাবা-মা জীবিকার তাগিদে ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরি করায় মেয়েটি গ্রামের বাড়িতে নানীর সঙ্গে বসবাস করত।

পরিবারের দাবি, স্থানীয় যুবক নয়ন ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে ওই স্কুলছাত্রীকে উত্যক্ত করত এবং প্রেমের প্রস্তাব দিত। বিষয়টি পরিবার জানতে পেরে তাকে সতর্ক করলেও সে বিরত হয়নি। পরে গত ৩ এপ্রিল সকালে নানী বাড়িতে না থাকার সুযোগে কয়েকজন সহযোগী নিয়ে বাড়ির সামনে আসে অভিযুক্তরা। অভিযোগ রয়েছে, তারা মেয়েটিকে জোরপূর্বক একটি সাদা মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়।

পরিবার জানায়, ঘটনার সময় এক আত্মীয় চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসে। তবে তার আগেই অভিযুক্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এরপর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও এখন পর্যন্ত ওই শিক্ষার্থীর সন্ধান পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় আদালতে দিনাজপুর অপহরণ মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় চারজনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বাদীপক্ষ আদালতে ভিকটিমের জন্মনিবন্ধনের কপি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করেছে, ঘটনার পর বিরামপুর থানায় গেলে মামলা নিতে গড়িমসি করা হয় এবং আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭/৩০ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।

এদিকে বিরামপুরে নাবালিকা অপহরণ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত মেয়েটিকে উদ্ধার এবং জড়িতদের গ্রেফতার করতে হবে। তারা মনে করছেন, প্রশাসনের আরও দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

বিরামপুর থানার মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই এনামুল হক বলেন, “ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চলছে।”

বর্তমানে ভুক্তভোগী পরিবার আদালতের পরবর্তী নির্দেশনা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছে। পরিবারটির একটাই দাবি, দ্রুত তাদের মেয়েকে জীবিত ও নিরাপদ অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া হোক।