বাংলাদেশ , বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
সর্বাধিক পঠিত

সালথায় ১৮টি খাল খনন: কৃষি উন্নয়নে নতুন আশার আলো

মোঃ ইলিয়াছ খান ( সালথা উপজেলা) প্রতিনিধি ফরিদপুর:

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় দীর্ঘদিনের পানি নিষ্কাশন সংকট ও জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সালথায় ১৮টি খাল খনন প্রকল্পের প্রস্তাব স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাব অনুমোদন পেলে দ্রুত সময়ের মধ্যে খাল পুনঃখনন কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সালথা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের অনেক খাল বছরের পর বছর পলি জমে নাব্যতা হারিয়েছে। কিছু খাল প্রায় অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। এর ফলে বর্ষা মৌসুমে ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় এবং শুষ্ক মৌসুমে কৃষকরা সেচের পানির সংকটে ভোগেন। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে খালগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. দবির উদ্দিন জানান, উপজেলার ১৮টি খাল খননের প্রস্তাব স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত অনুমোদন মিললে খননকাজ শুরু করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, খালগুলো পুনঃখনন করা হলে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন হবে এবং জলাবদ্ধতা নিরসন সহজ হবে। একই সঙ্গে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় জনগণ সরাসরি উপকৃত হবে।

স্থানীয় কৃষকদের মতে, খাল পুনঃখনন হলে সেচ ব্যবস্থার উন্নতি হবে। এতে কৃষি ব্যয় কমবে এবং ধান, পাট, শাকসবজি ও অন্যান্য ফসলের উৎপাদন বাড়বে। এছাড়া খালগুলো সচল থাকলে বর্ষাকালে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক থাকবে, ফলে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমে যাবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, খাল পুনঃখনন শুধু কৃষি খাতের জন্য নয়, পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং মৎস্য সম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে এবং স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থাও উপকৃত হবে।

এলাকাবাসী দ্রুত প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন। তাদের বিশ্বাস, সালথায় ১৮টি খাল খনন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কৃষি, পরিবেশ ও জনজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং দীর্ঘদিনের পানি নিষ্কাশন সমস্যা অনেকাংশে দূর হবে।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক সম্পর্কিত তথ্য
আপডেটের সময় : ০৭:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
৩১ সময় দৃশ্য

সালথায় ১৮টি খাল খনন: কৃষি উন্নয়নে নতুন আশার আলো

আপডেটের সময় : ০৭:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

মোঃ ইলিয়াছ খান ( সালথা উপজেলা) প্রতিনিধি ফরিদপুর:

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় দীর্ঘদিনের পানি নিষ্কাশন সংকট ও জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সালথায় ১৮টি খাল খনন প্রকল্পের প্রস্তাব স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাব অনুমোদন পেলে দ্রুত সময়ের মধ্যে খাল পুনঃখনন কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সালথা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের অনেক খাল বছরের পর বছর পলি জমে নাব্যতা হারিয়েছে। কিছু খাল প্রায় অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। এর ফলে বর্ষা মৌসুমে ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় এবং শুষ্ক মৌসুমে কৃষকরা সেচের পানির সংকটে ভোগেন। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে খালগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. দবির উদ্দিন জানান, উপজেলার ১৮টি খাল খননের প্রস্তাব স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত অনুমোদন মিললে খননকাজ শুরু করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, খালগুলো পুনঃখনন করা হলে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন হবে এবং জলাবদ্ধতা নিরসন সহজ হবে। একই সঙ্গে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় জনগণ সরাসরি উপকৃত হবে।

স্থানীয় কৃষকদের মতে, খাল পুনঃখনন হলে সেচ ব্যবস্থার উন্নতি হবে। এতে কৃষি ব্যয় কমবে এবং ধান, পাট, শাকসবজি ও অন্যান্য ফসলের উৎপাদন বাড়বে। এছাড়া খালগুলো সচল থাকলে বর্ষাকালে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক থাকবে, ফলে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমে যাবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, খাল পুনঃখনন শুধু কৃষি খাতের জন্য নয়, পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং মৎস্য সম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে এবং স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থাও উপকৃত হবে।

এলাকাবাসী দ্রুত প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন। তাদের বিশ্বাস, সালথায় ১৮টি খাল খনন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কৃষি, পরিবেশ ও জনজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং দীর্ঘদিনের পানি নিষ্কাশন সমস্যা অনেকাংশে দূর হবে।