বাংলাদেশ , বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
সর্বাধিক পঠিত

চট্টগ্রামে তেল সংকট: কৃত্রিম সংকট ও পাম্প জরিমানা

চট্টগ্রামে তেল সংকটের কারণে সাধারণ মানুষ ও মোটরসাইকেল চালকরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। যদিও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার অস্থির, বাংলাদেশে পর্যাপ্ত তেল জাহাজে এসে পৌঁছাচ্ছে। তারপরও অসাধু পাম্প মালিকদের কারণে চট্টগ্রামে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে। কোথাও তেল মজুদ থাকা সত্ত্বেও বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে, আবার কোথাও ‘রেশনিং’ করে সীমিত সরবরাহ করা হচ্ছে।

হাটহাজারী উপজেলার নাজিরহাট নতুন ব্রিজ সংলগ্ন একটি ফিলিং স্টেশনকে ভ্রাম্যমাণ আদালত জরিমানা করেছে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহেদ আরমান অভিযান চালিয়ে পাম্পটির রিজার্ভারে প্রায় ছয় হাজার লিটার অকটেন মজুদ দেখতে পান। এর মধ্যে চার হাজার লিটার ওইদিনই ডিপো থেকে আনা হয়েছিল। পাম্পটি তেল মজুদ থাকা সত্ত্বেও বিক্রি বন্ধ রাখায় পেট্রোলিয়াম আইন, ২০১৬-এর ২০ ধারায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে বিক্রি চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়।

চট্টগ্রামের বিভিন্ন পাম্পে ‘অকটেন নেই’ সাইনবোর্ড দেখা গেছে। নগরের প্রবর্তক মোড়, মুরাদপুর ও কাতালগঞ্জে পাম্পগুলো বিক্রি বন্ধ রাখার কারণ হিসেবে মালিকরা জানান—ডিপো থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ না পাওয়ায় বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার সমিতি বলছে, নগরীতে অকটেনের চাহিদা বেশি হওয়ায় সাময়িক সংকট তৈরি হয়েছে। ঈদের ছুটিতে ব্যাংক বন্ধ থাকায় পে-অর্ডার করতে না পারাও সরবরাহে প্রভাব ফেলেছে।

পুলিশ নতুন নির্দেশনা জারি করেছে, বৈধ কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া তেল বিক্রি করা যাবে না। পাম্প মালিকরা বলছেন, এটি তাদের দায়িত্ব নয়; আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজ। তেলের ভোগান্তি ও অতিরিক্ত কেনার প্রবণতার কারণে সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

মোটরসাইকেল চালকরা দীর্ঘ লাইন ধরে তেল কেনার জন্য অপেক্ষা করছেন। অনেকেই দাবি করছেন, জ্বালানি মজুদ রেখে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারী পাম্প মালিকদের আইনের আওতায় আনা দরকার। চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষ আশা করছেন, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে এবং তেলের যোগান সুষ্ঠুভাবে চলবে।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক সম্পর্কিত তথ্য
আপডেটের সময় : ১০:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
৩৪ সময় দৃশ্য

চট্টগ্রামে তেল সংকট: কৃত্রিম সংকট ও পাম্প জরিমানা

আপডেটের সময় : ১০:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

চট্টগ্রামে তেল সংকটের কারণে সাধারণ মানুষ ও মোটরসাইকেল চালকরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। যদিও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার অস্থির, বাংলাদেশে পর্যাপ্ত তেল জাহাজে এসে পৌঁছাচ্ছে। তারপরও অসাধু পাম্প মালিকদের কারণে চট্টগ্রামে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে। কোথাও তেল মজুদ থাকা সত্ত্বেও বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে, আবার কোথাও ‘রেশনিং’ করে সীমিত সরবরাহ করা হচ্ছে।

হাটহাজারী উপজেলার নাজিরহাট নতুন ব্রিজ সংলগ্ন একটি ফিলিং স্টেশনকে ভ্রাম্যমাণ আদালত জরিমানা করেছে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহেদ আরমান অভিযান চালিয়ে পাম্পটির রিজার্ভারে প্রায় ছয় হাজার লিটার অকটেন মজুদ দেখতে পান। এর মধ্যে চার হাজার লিটার ওইদিনই ডিপো থেকে আনা হয়েছিল। পাম্পটি তেল মজুদ থাকা সত্ত্বেও বিক্রি বন্ধ রাখায় পেট্রোলিয়াম আইন, ২০১৬-এর ২০ ধারায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে বিক্রি চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়।

চট্টগ্রামের বিভিন্ন পাম্পে ‘অকটেন নেই’ সাইনবোর্ড দেখা গেছে। নগরের প্রবর্তক মোড়, মুরাদপুর ও কাতালগঞ্জে পাম্পগুলো বিক্রি বন্ধ রাখার কারণ হিসেবে মালিকরা জানান—ডিপো থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ না পাওয়ায় বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার সমিতি বলছে, নগরীতে অকটেনের চাহিদা বেশি হওয়ায় সাময়িক সংকট তৈরি হয়েছে। ঈদের ছুটিতে ব্যাংক বন্ধ থাকায় পে-অর্ডার করতে না পারাও সরবরাহে প্রভাব ফেলেছে।

পুলিশ নতুন নির্দেশনা জারি করেছে, বৈধ কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া তেল বিক্রি করা যাবে না। পাম্প মালিকরা বলছেন, এটি তাদের দায়িত্ব নয়; আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজ। তেলের ভোগান্তি ও অতিরিক্ত কেনার প্রবণতার কারণে সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

মোটরসাইকেল চালকরা দীর্ঘ লাইন ধরে তেল কেনার জন্য অপেক্ষা করছেন। অনেকেই দাবি করছেন, জ্বালানি মজুদ রেখে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারী পাম্প মালিকদের আইনের আওতায় আনা দরকার। চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষ আশা করছেন, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে এবং তেলের যোগান সুষ্ঠুভাবে চলবে।