বাংলাদেশ , বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
সর্বাধিক পঠিত

ছাতিয়ানতলা মাদ্রাসায় অর্থ আত্মসাৎ অভিযোগ, তদন্তের দাবি

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ৪ নং পরানগঞ্জ ইউনিয়নের ঢাকিরকান্দা ছাতিয়ানতলা এলাকায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী জমিরিয়া ইমদাদিয়া ছাতিয়ানতলা মাদ্রাসা নিয়ে গুরুতর অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ১০০ বছরের পুরোনো এই ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নবঞ্চিত অবস্থায় রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্বে থাকা পুরাতন কমিটির কিছু সদস্য মাদ্রাসার সম্পদ ও অর্থের সঠিক ব্যবহার না করে ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করেছেন। প্রায় ৪৫ কাটা জমি থাকা সত্ত্বেও মাদ্রাসার কোনো স্বচ্ছ হিসাব কখনো প্রকাশ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, সম্প্রতি মাদ্রাসার গাছ বিক্রি করে প্রায় ৬ লক্ষ টাকা এবং মসজিদের পুকুরের মাছ বিক্রি করে প্রায় ৫০ হাজার টাকা আয় হলেও সেই টাকার কোনো হিসাব জনসমক্ষে দেওয়া হয়নি। বরং এসব অর্থ ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে এলাকাবাসীর সন্দেহ।

নতুন কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর পুরাতন কমিটির কাছে হিসাব চাইলে তারা সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। তারা শুধু “মাদ্রাসার উন্নয়নের কাজে খরচ করা হয়েছে” বলে দাবি করলেও কোনো কাগজপত্র বা প্রমাণ দেখাতে পারেনি।

আরও অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর ধরে দায়িত্বে থাকা কমিটির কিছু সদস্য বিভিন্ন ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক মামলায় জড়িয়ে পড়েছেন এবং সেই মামলার খরচ মাদ্রাসার তহবিল থেকে চালানো হয়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানটি আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এছাড়া বর্তমান কমিটি নিয়েও এলাকাবাসীর মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ শহীদ মিয়া ও সাবেক বালিখা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুর রাজ্জাক সরকারসহ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি মাদ্রাসার প্রশাসনে থেকে প্রভাব খাটাচ্ছেন। তারা মাদ্রাসার দোকান, জমি ও মার্কেট থেকে আয়ের অর্থে স্বচ্ছতা বজায় রাখছেন না বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

স্থানীয়রা আরও জানান, মাদ্রাসার নতুন মার্কেট থেকে নেওয়া অগ্রিম টাকা এবং দোকান বরাদ্দ নিয়েও অনিয়ম হয়েছে। কিছু দোকান ব্যক্তিগতভাবে দখল করে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এছাড়া মাদ্রাসার কৃষিজমির একটি অংশ বিক্রি ও বন্ধক রাখার বিষয়েও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, এই অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে শতবর্ষী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট হচ্ছে। একসময় যে মাদ্রাসা ছিল এলাকার গর্ব, আজ তা অবহেলা ও অনিয়মের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখার এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশ করে মাদ্রাসার হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক সম্পর্কিত তথ্য
আপডেটের সময় : ০৭:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
৩০ সময় দৃশ্য

ছাতিয়ানতলা মাদ্রাসায় অর্থ আত্মসাৎ অভিযোগ, তদন্তের দাবি

আপডেটের সময় : ০৭:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ৪ নং পরানগঞ্জ ইউনিয়নের ঢাকিরকান্দা ছাতিয়ানতলা এলাকায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী জমিরিয়া ইমদাদিয়া ছাতিয়ানতলা মাদ্রাসা নিয়ে গুরুতর অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ১০০ বছরের পুরোনো এই ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নবঞ্চিত অবস্থায় রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্বে থাকা পুরাতন কমিটির কিছু সদস্য মাদ্রাসার সম্পদ ও অর্থের সঠিক ব্যবহার না করে ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করেছেন। প্রায় ৪৫ কাটা জমি থাকা সত্ত্বেও মাদ্রাসার কোনো স্বচ্ছ হিসাব কখনো প্রকাশ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, সম্প্রতি মাদ্রাসার গাছ বিক্রি করে প্রায় ৬ লক্ষ টাকা এবং মসজিদের পুকুরের মাছ বিক্রি করে প্রায় ৫০ হাজার টাকা আয় হলেও সেই টাকার কোনো হিসাব জনসমক্ষে দেওয়া হয়নি। বরং এসব অর্থ ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে এলাকাবাসীর সন্দেহ।

নতুন কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর পুরাতন কমিটির কাছে হিসাব চাইলে তারা সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। তারা শুধু “মাদ্রাসার উন্নয়নের কাজে খরচ করা হয়েছে” বলে দাবি করলেও কোনো কাগজপত্র বা প্রমাণ দেখাতে পারেনি।

আরও অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর ধরে দায়িত্বে থাকা কমিটির কিছু সদস্য বিভিন্ন ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক মামলায় জড়িয়ে পড়েছেন এবং সেই মামলার খরচ মাদ্রাসার তহবিল থেকে চালানো হয়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানটি আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এছাড়া বর্তমান কমিটি নিয়েও এলাকাবাসীর মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ শহীদ মিয়া ও সাবেক বালিখা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুর রাজ্জাক সরকারসহ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি মাদ্রাসার প্রশাসনে থেকে প্রভাব খাটাচ্ছেন। তারা মাদ্রাসার দোকান, জমি ও মার্কেট থেকে আয়ের অর্থে স্বচ্ছতা বজায় রাখছেন না বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

স্থানীয়রা আরও জানান, মাদ্রাসার নতুন মার্কেট থেকে নেওয়া অগ্রিম টাকা এবং দোকান বরাদ্দ নিয়েও অনিয়ম হয়েছে। কিছু দোকান ব্যক্তিগতভাবে দখল করে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এছাড়া মাদ্রাসার কৃষিজমির একটি অংশ বিক্রি ও বন্ধক রাখার বিষয়েও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, এই অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে শতবর্ষী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট হচ্ছে। একসময় যে মাদ্রাসা ছিল এলাকার গর্ব, আজ তা অবহেলা ও অনিয়মের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখার এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশ করে মাদ্রাসার হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন।