বাংলাদেশ , বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
সর্বাধিক পঠিত

চট্টগ্রামে অকটেন সংকট: জ্বালানি তেল মজুদ ও বিক্রিতে ভোগান্তি

চট্টগ্রামে হঠাৎ করে তীব্র অকটেন সংকট দেখা দিয়েছে, যার কারণে নগর ও উপজেলার পেট্রোল পাম্পগুলোতে যানবাহন চালকরা চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন। অনেক পাম্পে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও গ্রাহকরা কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ অকটেন পাচ্ছেন না। কোথাও বিক্রি বন্ধ রেখে ‘অকটেন নেই’ সাইনবোর্ড টাঙানো হয়েছে।

পাম্প মালিকরা জানান, ডিপো থেকে চাহিদা অনুযায়ী অকটেন সরবরাহ না আসায় সীমিত বিক্রি করতে হচ্ছে। অনেক জায়গায় এখন রেশনিং পদ্ধতিতেও তেল দেওয়া হচ্ছে। হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। ডিজেলের তেমন সংকট না থাকলেও অকটেনের সরবরাহ কম থাকায় সমস্যা তৈরি হয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশে জ্বালানির প্রকৃত কোনো ঘাটতি নেই। তেলবাহী জাহাজ থেকে নিয়মিত জ্বালানি খালাস করা হচ্ছে এবং বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর অতিরিক্ত মজুদ ও কালোবাজারির কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ। অনেক পাম্পে তেল থাকা সত্ত্বেও বিক্রি সীমিত রাখা হচ্ছে। কোথাও নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি বিক্রি হওয়ারও অভিযোগ উঠেছে।

ফিশিং খাতেও প্রভাব পড়েছে। চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল না পাওয়ায় অনেক ট্রলার সাগরে যেতে পারছে না। ফলে হাজারো জেলে ঘাটে অলস সময় কাটাচ্ছেন। চট্টগ্রামে কয়েক হাজার ফিশিং ট্রলার থাকলেও নিয়মিত সাগরে যায় মাত্র কয়েকশ ট্রলার।

জেলা প্রশাসন জানাচ্ছে, শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৯৮টি অভিযান চালিয়ে প্রায় চার লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে অকটেন, পেট্রল ও ডিজেল মজুত রয়েছে। আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করার কোনো প্রয়োজন নেই।

চট্টগ্রামে অকটেন সংকট ও জ্বালানি সরবরাহ সমস্যা সমাধানে প্রশাসন ও সরবরাহকারী সংস্থাগুলো কার্যক্রম বাড়াচ্ছে, যাতে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক সম্পর্কিত তথ্য
আপডেটের সময় : ০৯:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
২৭ সময় দৃশ্য

চট্টগ্রামে অকটেন সংকট: জ্বালানি তেল মজুদ ও বিক্রিতে ভোগান্তি

আপডেটের সময় : ০৯:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

চট্টগ্রামে হঠাৎ করে তীব্র অকটেন সংকট দেখা দিয়েছে, যার কারণে নগর ও উপজেলার পেট্রোল পাম্পগুলোতে যানবাহন চালকরা চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন। অনেক পাম্পে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও গ্রাহকরা কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ অকটেন পাচ্ছেন না। কোথাও বিক্রি বন্ধ রেখে ‘অকটেন নেই’ সাইনবোর্ড টাঙানো হয়েছে।

পাম্প মালিকরা জানান, ডিপো থেকে চাহিদা অনুযায়ী অকটেন সরবরাহ না আসায় সীমিত বিক্রি করতে হচ্ছে। অনেক জায়গায় এখন রেশনিং পদ্ধতিতেও তেল দেওয়া হচ্ছে। হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। ডিজেলের তেমন সংকট না থাকলেও অকটেনের সরবরাহ কম থাকায় সমস্যা তৈরি হয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশে জ্বালানির প্রকৃত কোনো ঘাটতি নেই। তেলবাহী জাহাজ থেকে নিয়মিত জ্বালানি খালাস করা হচ্ছে এবং বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর অতিরিক্ত মজুদ ও কালোবাজারির কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ। অনেক পাম্পে তেল থাকা সত্ত্বেও বিক্রি সীমিত রাখা হচ্ছে। কোথাও নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি বিক্রি হওয়ারও অভিযোগ উঠেছে।

ফিশিং খাতেও প্রভাব পড়েছে। চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল না পাওয়ায় অনেক ট্রলার সাগরে যেতে পারছে না। ফলে হাজারো জেলে ঘাটে অলস সময় কাটাচ্ছেন। চট্টগ্রামে কয়েক হাজার ফিশিং ট্রলার থাকলেও নিয়মিত সাগরে যায় মাত্র কয়েকশ ট্রলার।

জেলা প্রশাসন জানাচ্ছে, শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৯৮টি অভিযান চালিয়ে প্রায় চার লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে অকটেন, পেট্রল ও ডিজেল মজুত রয়েছে। আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করার কোনো প্রয়োজন নেই।

চট্টগ্রামে অকটেন সংকট ও জ্বালানি সরবরাহ সমস্যা সমাধানে প্রশাসন ও সরবরাহকারী সংস্থাগুলো কার্যক্রম বাড়াচ্ছে, যাতে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়।