জব্বারের বলীখেলা ২০২৬ ও চট্টগ্রাম বৈশাখী মেলা ২৫ এপ্রিল থেকে শুরু

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী ও বহু বছরের পুরোনো সংস্কৃতির অংশ আবদুল জব্বারের বলীখেলা ও বৈশাখী মেলা শুরু হচ্ছে আগামী ২৫ এপ্রিল শুক্রবার। এবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এই আয়োজনের ১১৭তম আসর। মেলা ও বলীখেলা ঘিরে ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম শহরে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ২৫ এপ্রিল থেকে লালদীঘি মাঠ ও আশপাশের এলাকায় শুরু হবে চট্টগ্রাম বৈশাখী মেলা। পরদিন শনিবার ২৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রতীক্ষিত জব্বারের বলীখেলা ২০২৬। তবে একই দিনে এসএসসি পরীক্ষা থাকায় মেলা ভোরের মধ্যেই শেষ করার নির্দেশনা দিয়েছে প্রশাসন।
মেলা ও বলীখেলার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এলাকায় ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন, পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন এবং সার্বক্ষণিক নজরদারির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকেও শৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ টিম কাজ করবে।
২২ এপ্রিল চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক শওকত আনোয়ার বাদল। তিনি জানান, এবারের আয়োজন আরও বড় পরিসরে করা হয়েছে।
বলীখেলা ও বৈশাখী মেলার প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে রয়েছে মোবাইল অপারেটর বাংলালিংক। উদ্বোধন করবেন সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী এবং পুরস্কার বিতরণ করবেন সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান।
মেলা উপলক্ষে লালদীঘি এলাকায় একটি নতুন ম্যুরাল উদ্বোধন করা হয়েছে এবং জায়গাটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘জব্বার চত্বর’। মেয়র জানান, এই উদ্যোগ নতুন প্রজন্মকে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত করবে।
উল্লেখ্য, আবদুল জব্বার সওদাগর ১৯০৯ সালে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সময় যুবকদের সংগঠিত করতে এই বলীখেলার সূচনা করেন। সময়ের সঙ্গে এটি এখন বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ লোকজ উৎসবে পরিণত হয়েছে।
মেলায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে শত শত ব্যবসায়ী অংশ নেন। এখানে মাটির পাত্র, বাঁশ-বেতের সামগ্রী, খেলনা, মিষ্টি, খাবার ও কসমেটিকসসহ নানা পণ্যের বিশাল সমাহার দেখা যায়। এটি শুধু মেলা নয়, বরং বাংলার লোকজ সংস্কৃতির এক বিশাল মিলনমেলা।








