আগ্রাবাদে এক্সপ্রেসওয়ে র্যাম্পে শতাধিক দোকান উচ্ছেদ

চট্টগ্রাম নগরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা আগ্রাবাদে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের র্যাম্প নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বড় ধরনের উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। মঙ্গলবার (১২ মে) সকাল ১০টা থেকে এই অভিযান শুরু হয় এবং আগ্রাবাদের শেখ মুজিব রোডের বাদামতলী মোড়ের দক্ষিণ পাশ থেকে বাংলাদেশ বেতার চট্টগ্রাম কেন্দ্র পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় পরিচালিত হয়।
এই আগ্রাবাদ উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে প্রায় শতাধিক দোকান ও কয়েকটি দ্বিতল ভবন উচ্ছেদ করা হয়। অভিযানে ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দেয়। তাদের অভিযোগ, কোনো পর্যাপ্ত সময় বা আগাম প্রস্তুতির সুযোগ না দিয়েই মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে দোকান ভেঙে ফেলা হয়েছে, ফলে তারা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
সিডিএ সূত্র জানায়, এক্সপ্রেসওয়ে র্যাম্প নির্মাণ প্রকল্পের জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ের কাছ থেকে ২২ শতক জমি নেওয়া হয়েছে। দ্রুত কাজ এগিয়ে নিতে ওই জমিতে থাকা সব স্থাপনা অপসারণ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দোকান মালিকদের এক বছরের বেশি সময় আগে স্থান ত্যাগের নোটিশ দেওয়া হয়েছিল এবং অভিযানের ২৪ ঘণ্টা আগেও চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।
তবে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দাবি করেন, তারা দীর্ঘ ৫০–৬০ বছর ধরে সেখানে ব্যবসা করে আসছেন এবং রেলওয়ের লিজ নিয়ে বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন। হঠাৎ উচ্ছেদে তারা জীবিকা হারিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। তাদের দাবি, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের বিষয়টি এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।
এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক ও নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান জানান, র্যাম্প নির্মাণ কাজ দ্রুত শুরু করতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ক্ষতিপূরণের বিষয়টি বাংলাদেশ রেলওয়ে দেখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সিডিএ’র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে র্যাব, পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী অংশ নেয়। পুরো এলাকায় কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে উচ্ছেদ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এই ঘটনা স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।








