চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা: মেয়রের ক্ষমা, নগরবাসীর দুর্ভোগ

টানা বৃষ্টিতে আবারও জলাবদ্ধতায় ভুগছে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। নগরীর বিভিন্ন এলাকা পানিতে ডুবে গিয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নগরবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছেন সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন।
বুধবার সকালে নগরীর প্রবর্তক মোড় এলাকায় পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মেয়র। তিনি বলেন, “গতকালের জলাবদ্ধতার জন্য আমরা দুঃখিত। যদিও কাজ করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও সেনাবাহিনী, তারপরও নাগরিকদের কাছে আমি ক্ষমা চাইছি।”
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত টানা ভারি বৃষ্টিতে শহরের অনেক এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। শুধু জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকা নয়, নতুন নতুন এলাকাও পানিবন্দি হয়ে পড়ে। এতে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী এবং ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
মেয়র জানান, খাল সংস্কারের জন্য তৈরি করা অস্থায়ী বাঁধগুলোই মূলত পানি আটকে রেখেছিল। বিশেষ করে হিজড়া খালের আশপাশে প্রায় ৩০টির মতো বাঁধ থাকায় পানি নামতে পারেনি। পরে এসব বাঁধ খুলে দিলে পানি ধীরে ধীরে নামতে শুরু করে।
তিনি আরও বলেন, “চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা কমাতে কাজ চলছে। তবে নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে। রাস্তায় ময়লা, প্লাস্টিক ও পলিথিন ফেলা বন্ধ না করলে সমস্যার সমাধান কঠিন।”
মেয়র জানান, বর্ষা মৌসুম সামনে রেখে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে খাল সংস্কার ও উন্নয়ন কাজ চলছে। কিছু জায়গায় আইনি জটিলতার কারণে কাজ দেরিতে হয়েছে। তবে দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, “আগে আমরা ৫০-৬০ শতাংশ জলাবদ্ধতা কমাতে পেরেছি। এবার সেটি ৭০-৮০ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে।”
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার কয়েক ঘণ্টায় ৮১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে, যা এই জলাবদ্ধতার বড় কারণ। বর্ষা শুরুর আগেই এমন পরিস্থিতি হওয়ায় নগরবাসীর মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে বাঁধ অপসারণ এবং দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নগরবাসী এখন দ্রুত স্থায়ী সমাধান চায়।








