বাংলাদেশ , বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
সর্বাধিক পঠিত

চট্টগ্রামে হাম-রুবেলা টিকা: ২০ মে থেকে ৭ লাখ শিশু

চট্টগ্রামে শিশুদের সুরক্ষায় শুরু হতে যাচ্ছে বড় আকারের হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৬। আগামী ২০ মে থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে জেলার লাখ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনা হবে।

রোববার (১৯ এপ্রিল) চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, এই হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে মোট ৭ লাখ ৬৭ হাজার ৯৫২ জন শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই লক্ষ্যকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রয়েছে ১ লাখ ৫১ হাজার ৭৫৫ জন এবং কমিউনিটি পর্যায়ের শিশু ৬ লাখ ১৬ হাজার ১৯৭ জন। ক্যাম্পেইনটি চলবে ২০ মে থেকে ১০ জুন পর্যন্ত, মোট ১১ কার্যদিবস ধরে।

এই সময়ের মধ্যে ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী সকল শিশুকে ১ ডোজ হাম-রুবেলা টিকা দেওয়া হবে। বিশেষ বিষয় হলো, যেসব শিশু আগে হামের টিকা নিয়েছে, তাদেরকেও এই ক্যাম্পেইনে আবার টিকা নিতে হবে। কারণ এটি একটি বিশেষ সুরক্ষা কর্মসূচি।

চট্টগ্রামের ১৫টি উপজেলার ২০০টি ইউনিয়ন ও ৬০০টি ওয়ার্ডে এই টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এ জন্য ৪ হাজার ৮১৫টি টিকাকেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কর্মসূচি বাস্তবায়নে ৯২৯ জন মাঠকর্মী, ৫২৪ জন সিএইচসিপি এবং ৩৭১ জন মেডিক্যাল অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন।

ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, হাম ও রুবেলা অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। এই রোগ শিশুদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। তাই সময়মতো টিকা দেওয়া খুবই জরুরি। তিনি জানান, এই কর্মসূচির মাধ্যমে জেলার অন্তত ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অসুস্থ শিশু বা হাসপাতালে ভর্তি শিশুদের সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত টিকা দেওয়া হবে না। এছাড়া অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া কোনো শিশুকে টিকা দেওয়া হবে না।

অভিভাবকদের সুবিধার জন্য অনলাইনে নিবন্ধনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নির্ধারিত ওয়েবসাইট থেকে সহজেই নিবন্ধন করে টিকার কার্ড সংগ্রহ করা যাবে।

এই চট্টগ্রামে টিকা কর্মসূচি শিশুদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক সম্পর্কিত তথ্য
আপডেটের সময় : ১০:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
৩৩ সময় দৃশ্য

চট্টগ্রামে হাম-রুবেলা টিকা: ২০ মে থেকে ৭ লাখ শিশু

আপডেটের সময় : ১০:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

চট্টগ্রামে শিশুদের সুরক্ষায় শুরু হতে যাচ্ছে বড় আকারের হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৬। আগামী ২০ মে থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে জেলার লাখ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনা হবে।

রোববার (১৯ এপ্রিল) চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, এই হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে মোট ৭ লাখ ৬৭ হাজার ৯৫২ জন শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই লক্ষ্যকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রয়েছে ১ লাখ ৫১ হাজার ৭৫৫ জন এবং কমিউনিটি পর্যায়ের শিশু ৬ লাখ ১৬ হাজার ১৯৭ জন। ক্যাম্পেইনটি চলবে ২০ মে থেকে ১০ জুন পর্যন্ত, মোট ১১ কার্যদিবস ধরে।

এই সময়ের মধ্যে ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী সকল শিশুকে ১ ডোজ হাম-রুবেলা টিকা দেওয়া হবে। বিশেষ বিষয় হলো, যেসব শিশু আগে হামের টিকা নিয়েছে, তাদেরকেও এই ক্যাম্পেইনে আবার টিকা নিতে হবে। কারণ এটি একটি বিশেষ সুরক্ষা কর্মসূচি।

চট্টগ্রামের ১৫টি উপজেলার ২০০টি ইউনিয়ন ও ৬০০টি ওয়ার্ডে এই টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এ জন্য ৪ হাজার ৮১৫টি টিকাকেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কর্মসূচি বাস্তবায়নে ৯২৯ জন মাঠকর্মী, ৫২৪ জন সিএইচসিপি এবং ৩৭১ জন মেডিক্যাল অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন।

ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, হাম ও রুবেলা অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। এই রোগ শিশুদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। তাই সময়মতো টিকা দেওয়া খুবই জরুরি। তিনি জানান, এই কর্মসূচির মাধ্যমে জেলার অন্তত ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অসুস্থ শিশু বা হাসপাতালে ভর্তি শিশুদের সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত টিকা দেওয়া হবে না। এছাড়া অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া কোনো শিশুকে টিকা দেওয়া হবে না।

অভিভাবকদের সুবিধার জন্য অনলাইনে নিবন্ধনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নির্ধারিত ওয়েবসাইট থেকে সহজেই নিবন্ধন করে টিকার কার্ড সংগ্রহ করা যাবে।

এই চট্টগ্রামে টিকা কর্মসূচি শিশুদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে স্বাস্থ্য বিভাগ।