নরসিংদীতে শিশু নির্যাতন: মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে মারধর, শিক্ষক গ্রেফতার

নরসিংদীতে শিক্ষক দ্বারা শিশু নির্যাতনের একটি নৃশংস ঘটনা দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। নরসিংদী শহরের ভেলানগর জেলখানা মোড় সংলগ্ন মাদ্রাসাতুল আবরার আরাবিয়্যাহ নামের একটি দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, গোসল না করার অজুহাতে মোজাহিদ নামের এক শিশুকে নির্মমভাবে মারধর করেন শিক্ষক নাজমুল ইসলাম।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদ্রাসা শিক্ষার্থী নির্যাতনের এই ঘটনাটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর আগেও ওই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমন অমানবিক আচরণের অভিযোগ উঠেছিল। ঘটনার দিন তুচ্ছ একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে শিক্ষক নাজমুল ইসলাম শিশুটিকে বেধড়ক মারধর করেন। নির্যাতনের মাত্রা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, শিশুটি গুরুতর আহত হয়ে পড়ে এবং তার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়।
পরবর্তীতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় শিশুটিকে দ্রুত নরসিংদী জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এই ঘটনার খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় এলাকাসহ পুরো জেলায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সাধারণ মানুষ এই ঘটনার কঠোর বিচার দাবি করেছেন।
এলাকাবাসীর মতে, শিক্ষকের দায়িত্ব শিক্ষার্থীদের সঠিক পথে পরিচালিত করা, কোনোভাবেই শারীরিক নির্যাতন করা নয়। এমন বর্বর আচরণ শিক্ষার পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। তারা বলেন, শিশুদের নিরাপদ শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে এ ধরনের অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি জরুরি।
ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে নরসিংদী মডেল থানার পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক নাজমুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, শিশুদের ওপর সহিংসতার ঘটনা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না এবং আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করেছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। নরসিংদীসহ সারাদেশের মানুষ চায়, ভবিষ্যতে যেন কোনো শিশু এমন নির্যাতনের শিকার না হয়।








