ফরিদপুরে প্রাইভেট কারের পাশে মরদেহ, দুইজন আটক

মোঃ ইলিয়াছ খান (সালথা উপজেলা) প্রতিনিধি ফরিদপুর:
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় উল্টে যাওয়া একটি প্রাইভেট কারের পাশ থেকে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারকে ঘিরে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ প্রাইভেট কারে থাকা দুইজনকে আটক করেছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি দুর্ঘটনা মনে হলেও, পরে এটি একটি সম্ভাব্য হত্যাকাণ্ড হিসেবে সামনে আসে।
নিহত ব্যক্তির নাম রবিউল ইসলাম (৩৬)। তিনি মাগুরা জেলার মোহাম্মদপুর উপজেলার সিন্দাইন গ্রামের বাসিন্দা এবং পেশায় ট্রাকচালক ছিলেন। তার পরিবারে স্ত্রী ও ১১ বছর বয়সী একটি সন্তান রয়েছে।
বুধবার (৬ মে) দুপুরে বোয়ালমারী থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, মরদেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বিশেষ করে মাথা ও পায়ে গুরুতর ক্ষত দেখা গেছে। এ কারণে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট ছাড়া নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।
ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার (৫ মে) রাত ৯টার দিকে বোয়ালমারীর ময়না ইউনিয়নের হাটখোলারচর এলাকায়। স্থানীয়রা একটি উল্টে থাকা প্রাইভেট কার দেখতে পান। সন্দেহ হলে তারা গাড়ির আরোহীদের ধাওয়া দেন। এতে তিনজন পালিয়ে গেলেও শাহজাদা (২৩) ও তপু সাহা (২২) নামে দুইজনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের ধারণা, হত্যার পর মরদেহ ফেলে পালানোর সময় গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। এই ঘটনায় প্রাইভেট কারটির ভূমিকা নিয়েও তদন্ত চলছে।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী তাকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। জানা যায়, মোটরসাইকেল সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এই ঘটনা ঘটতে পারে। নিহতের সঙ্গে থাকা সাইদ মোল্লা জানান, তার জামাতার সঙ্গে বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন কৌশলে রবিউল ইসলামকে আলাদা করে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এছাড়া পলাতক সন্দেহভাজনদের খুঁজে বের করতে অভিযান চলছে। দ্রুত এই ফরিদপুর হত্যা রহস্য উদঘাটন করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।








