কাপ্তাইয়ে কর্ণফুলীতে প্রথম ক্যাবল স্টেইড সেতু, ব্যয় ১৬৫৮৭১ লক্ষ টাকা

রাঙ্গামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলায় কর্ণফুলী নদীর উপর দেশের প্রথম ক্যাবল স্টেইড সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর। চন্দ্রঘোনা-রাইখালী ফেরিঘাট এলাকায় এই সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় একটি নতুন অধ্যায় যুক্ত হবে।
প্রস্তাবিত এই কাপ্তাই ক্যাবল স্টেইড সেতু প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬৫৮৭১.৮৬ লক্ষ টাকা। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে সেতুর চূড়ান্ত নকশা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে পাঠানো হয়েছে।
গত ৯ মার্চ সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রকল্প যাচাই কমিটির সভায় কর্ণফুলী নদীর উপর এই সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এই সেতু নির্মিত হলে এটিই হবে বাংলাদেশের প্রথম ক্যাবল স্টেইড সেতু, যা দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রকল্পের আওতায় কর্ণফুলী নদীর উপর ৫৩২ মিটার দীর্ঘ মূল ক্যাবল স্টেইড সেতু নির্মাণ করা হবে। এছাড়া ৪৫৫ মিটার ভায়াডাক্ট এবং ৫১১ মিটার এলিভেটেড সংযোগ সড়ক তৈরি করা হবে। মূল সেতু ও ভায়াডাক্ট নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৮৬৮৫০.১৬ লক্ষ টাকা এবং সংযোগ সড়কসহ অন্যান্য কাজে ব্যয় হবে প্রায় ২৪২০০.২০ লক্ষ টাকা।
এই কর্ণফুলী নদীর সেতু প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে এবং শেষ হওয়ার সময় ৩০ জুন ২০৩১ পর্যন্ত। তবে প্রকল্পটি একনেক সভায় অনুমোদন পাওয়ার পরই নির্মাণ কাজ শুরু হবে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, এই সেতু নির্মাণের প্রধান লক্ষ্য হলো রাঙামাটি থেকে বান্দরবান পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগ সহজ করা। বর্তমানে এই রুটে ফেরি ব্যবহার করতে হয়, যা সময়সাপেক্ষ এবং অনেক সময় ঝুঁকিপূর্ণ। সেতুটি নির্মিত হলে যাতায়াত হবে দ্রুত, নিরাপদ এবং আরামদায়ক।
এছাড়া এই সেতু রাঙামাটি-ঘাগড়া-বাংলাহালিয়া-বান্দরবান আঞ্চলিক মহাসড়ক (আর-১৬১) এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে কাজ করবে। এতে করে দুই জেলার মধ্যে সড়ক নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী হবে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা মনে করেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে এবং পর্যটন শিল্প নতুন গতি পাবে। বিশেষ করে রাঙামাটি ও বান্দরবানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পর্যটকদের যাতায়াত সহজ হবে।
কাপ্তাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলের মানুষ এই সেতুর অপেক্ষায় ছিল। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, কাপ্তাইয়ে কর্ণফুলী নদীর উপর এই ক্যাবল স্টেইড সেতু নির্মাণ শুধু একটি অবকাঠামো প্রকল্প নয়, বরং এটি দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের উন্নয়নের একটি বড় পদক্ষেপ।








