বাংলাদেশ , বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
সর্বাধিক পঠিত

কালিয়াকৈরে টিকিটে মাছ ধরার প্রতিযোগিতা

শাকিল হোসেন,কালিয়াকৈর (গাজীপুর)প্রতিনিধিঃ

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মেদী-আশুলিয়া এলাকার বড়পুকুরপাড়ে শুরু হয়েছে টিকিটের মাধ্যমে বড়শি দিয়ে মাছ ধরার প্রতিযোগিতা। শুক্রবার (৮ মে) সকাল থেকে শুরু হওয়া এই ব্যতিক্রমী আয়োজন ঘিরে এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও পাশের উপজেলা থেকে শতাধিক মাছ শিকারি এতে অংশ নেন।

স্থানীয়ভাবে আয়োজিত এই কালিয়াকৈরে মাছ ধরার প্রতিযোগিতা দেখতে সকাল থেকেই পুকুরপাড়ে ভিড় করেন উৎসুক দর্শনার্থীরা। আয়োজকরা জানান, প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে প্রতিজনকে নির্ধারিত মূল্যে টিকিট সংগ্রহ করতে হয়েছে। পরে অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে বড়শি ফেলে মাছ শিকার শুরু করেন।

আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, প্রতিযোগিতার জন্য আগে থেকেই পুকুরে রুই, কাতলা, মৃগেল ও বিভিন্ন কার্পজাতীয় মাছ অবমুক্ত করা হয়। এতে প্রতিযোগীরা সহজেই মাছ শিকারের সুযোগ পান। কেউ কেউ বড় মাছ ধরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

মাছ ধরতে আসা প্রতিযোগী সবুজ মিয়া বলেন, “এ ধরনের আয়োজন গ্রামবাংলার পুরোনো ঐতিহ্যকে আবারও ফিরিয়ে আনছে। বন্ধুদের সঙ্গে এখানে এসে মাছ ধরতে খুব ভালো লাগছে।”

আরেক প্রতিযোগী ফয়সাল আহমেদ বলেন, “সকাল থেকেই বড় মাছ ধরার চেষ্টা করছি। পরিবার নিয়েও এসেছি। পুরো পরিবেশটা খুব আনন্দের।”

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল বারেক জানান, আগে গ্রামে এমন আয়োজন নিয়মিত হলেও এখন অনেক কমে গেছে। এই আয়োজনের মাধ্যমে এলাকার মানুষ একসঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পাচ্ছেন।

এলাকাবাসী আজিজের মতে, টিকিটের মাধ্যমে মাছ ধরা প্রতিযোগিতা তরুণদের মোবাইল ও অনলাইন আসক্তি কমিয়ে গ্রামীণ বিনোদনের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে সহায়ক হবে।

আয়োজক কমিটির সদস্য খালেক জানান, প্রতিযোগিতা শেষে সবচেয়ে বেশি ও বড় মাছ শিকারকারী প্রতিযোগীদের পুরস্কার দেওয়া হবে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় স্বেচ্ছাসেবক টিম কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

কালিয়াকৈর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাজমুল হুদা বলেন, গ্রামীণ ঐতিহ্য ও সামাজিক সম্প্রীতি ধরে রাখতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে মাছের প্রজনন মৌসুম ও সরকারি নিয়ম মেনে প্রতিযোগিতা আয়োজন করা প্রয়োজন। সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এমন আয়োজন স্থানীয় পর্যায়ে বিনোদনের পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখে।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক সম্পর্কিত তথ্য
আপডেটের সময় : ১০:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬
১৮ সময় দৃশ্য

কালিয়াকৈরে টিকিটে মাছ ধরার প্রতিযোগিতা

আপডেটের সময় : ১০:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬

শাকিল হোসেন,কালিয়াকৈর (গাজীপুর)প্রতিনিধিঃ

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মেদী-আশুলিয়া এলাকার বড়পুকুরপাড়ে শুরু হয়েছে টিকিটের মাধ্যমে বড়শি দিয়ে মাছ ধরার প্রতিযোগিতা। শুক্রবার (৮ মে) সকাল থেকে শুরু হওয়া এই ব্যতিক্রমী আয়োজন ঘিরে এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও পাশের উপজেলা থেকে শতাধিক মাছ শিকারি এতে অংশ নেন।

স্থানীয়ভাবে আয়োজিত এই কালিয়াকৈরে মাছ ধরার প্রতিযোগিতা দেখতে সকাল থেকেই পুকুরপাড়ে ভিড় করেন উৎসুক দর্শনার্থীরা। আয়োজকরা জানান, প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে প্রতিজনকে নির্ধারিত মূল্যে টিকিট সংগ্রহ করতে হয়েছে। পরে অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে বড়শি ফেলে মাছ শিকার শুরু করেন।

আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, প্রতিযোগিতার জন্য আগে থেকেই পুকুরে রুই, কাতলা, মৃগেল ও বিভিন্ন কার্পজাতীয় মাছ অবমুক্ত করা হয়। এতে প্রতিযোগীরা সহজেই মাছ শিকারের সুযোগ পান। কেউ কেউ বড় মাছ ধরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

মাছ ধরতে আসা প্রতিযোগী সবুজ মিয়া বলেন, “এ ধরনের আয়োজন গ্রামবাংলার পুরোনো ঐতিহ্যকে আবারও ফিরিয়ে আনছে। বন্ধুদের সঙ্গে এখানে এসে মাছ ধরতে খুব ভালো লাগছে।”

আরেক প্রতিযোগী ফয়সাল আহমেদ বলেন, “সকাল থেকেই বড় মাছ ধরার চেষ্টা করছি। পরিবার নিয়েও এসেছি। পুরো পরিবেশটা খুব আনন্দের।”

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল বারেক জানান, আগে গ্রামে এমন আয়োজন নিয়মিত হলেও এখন অনেক কমে গেছে। এই আয়োজনের মাধ্যমে এলাকার মানুষ একসঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পাচ্ছেন।

এলাকাবাসী আজিজের মতে, টিকিটের মাধ্যমে মাছ ধরা প্রতিযোগিতা তরুণদের মোবাইল ও অনলাইন আসক্তি কমিয়ে গ্রামীণ বিনোদনের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে সহায়ক হবে।

আয়োজক কমিটির সদস্য খালেক জানান, প্রতিযোগিতা শেষে সবচেয়ে বেশি ও বড় মাছ শিকারকারী প্রতিযোগীদের পুরস্কার দেওয়া হবে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় স্বেচ্ছাসেবক টিম কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

কালিয়াকৈর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাজমুল হুদা বলেন, গ্রামীণ ঐতিহ্য ও সামাজিক সম্প্রীতি ধরে রাখতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে মাছের প্রজনন মৌসুম ও সরকারি নিয়ম মেনে প্রতিযোগিতা আয়োজন করা প্রয়োজন। সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এমন আয়োজন স্থানীয় পর্যায়ে বিনোদনের পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখে।