বাংলাদেশ , বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
সর্বাধিক পঠিত

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় চসিক মেয়র পদক্ষেপে দ্রুত উন্নতি

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা সমস্যা দীর্ঘদিনের হলেও সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে পরিস্থিতি আবারও খারাপ হয়ে ওঠে। গত দুই দিনের হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিতে নগরীর মুরাদপুর, প্রবর্তক মোড়, কাতালগঞ্জ, চকবাজার, জামালখান ও বহদ্দারহাটসহ বেশ কয়েকটি এলাকা পানিতে ডুবে যায়। অনেক স্থানে পানির উচ্চতা কোমর পর্যন্ত পৌঁছে যায়, যা সাধারণ মানুষের চলাচলে বড় ধরনের ভোগান্তি সৃষ্টি করে।

রাস্তায় পানি জমে থাকার কারণে অফিস-আদালত ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আংশিকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং নগরজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। তবে এই পরিস্থিতিতে চসিক মেয়র পদক্ষেপ দ্রুত নেওয়ায় কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে নগরবাসীর জীবনে।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন জলাবদ্ধতা-প্রবণ বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। তিনি প্রবর্তক মোড়, কাতালগঞ্জ, চকবাজার, জামালখান, মুরাদপুর ও বহদ্দারহাট এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

পরিদর্শনের সময় দেখা যায়, অধিকাংশ এলাকা থেকে পানি নেমে গেছে এবং সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। মূলত অস্থায়ী বাঁধ অপসারণের ফলে পানি দ্রুত নামতে সক্ষম হয়। মেয়রের নির্দেশনায় হিজরা খাল, জামালখান খাল ও মুরাদপুর বক্স কালভার্ট এলাকায় থাকা বাঁধ সরিয়ে ফেলা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অধীনে সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার ব্রিগেড খাল খনন ও উন্নয়ন কাজ চালাচ্ছে। এই কাজের জন্য কিছু স্থানে অস্থায়ী বাঁধ দেওয়া হয়েছিল, যা বৃষ্টির সময় পানি নিষ্কাশনে বাধা সৃষ্টি করে।

তবে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগে দ্রুত এসব বাঁধ অপসারণ করা হয়। ফলে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হয়ে যায় এবং জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটে।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, উন্নয়ন কাজ চলার কারণে সাময়িক সমস্যা হয়েছে। তবে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার কারণে সমস্যা কমানো সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও জানান, কাজ শেষ হলে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা স্থায়ীভাবে কমে যাবে।

তিনি সংশ্লিষ্ট সব বিভাগকে একসাথে কাজ করার নির্দেশ দেন, যাতে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে নগরবাসীকে ভোগান্তিতে না পড়তে হয়।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক সম্পর্কিত তথ্য
আপডেটের সময় : ১২:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
১৯ সময় দৃশ্য

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় চসিক মেয়র পদক্ষেপে দ্রুত উন্নতি

আপডেটের সময় : ১২:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা সমস্যা দীর্ঘদিনের হলেও সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে পরিস্থিতি আবারও খারাপ হয়ে ওঠে। গত দুই দিনের হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিতে নগরীর মুরাদপুর, প্রবর্তক মোড়, কাতালগঞ্জ, চকবাজার, জামালখান ও বহদ্দারহাটসহ বেশ কয়েকটি এলাকা পানিতে ডুবে যায়। অনেক স্থানে পানির উচ্চতা কোমর পর্যন্ত পৌঁছে যায়, যা সাধারণ মানুষের চলাচলে বড় ধরনের ভোগান্তি সৃষ্টি করে।

রাস্তায় পানি জমে থাকার কারণে অফিস-আদালত ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আংশিকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং নগরজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। তবে এই পরিস্থিতিতে চসিক মেয়র পদক্ষেপ দ্রুত নেওয়ায় কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে নগরবাসীর জীবনে।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন জলাবদ্ধতা-প্রবণ বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। তিনি প্রবর্তক মোড়, কাতালগঞ্জ, চকবাজার, জামালখান, মুরাদপুর ও বহদ্দারহাট এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

পরিদর্শনের সময় দেখা যায়, অধিকাংশ এলাকা থেকে পানি নেমে গেছে এবং সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। মূলত অস্থায়ী বাঁধ অপসারণের ফলে পানি দ্রুত নামতে সক্ষম হয়। মেয়রের নির্দেশনায় হিজরা খাল, জামালখান খাল ও মুরাদপুর বক্স কালভার্ট এলাকায় থাকা বাঁধ সরিয়ে ফেলা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অধীনে সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার ব্রিগেড খাল খনন ও উন্নয়ন কাজ চালাচ্ছে। এই কাজের জন্য কিছু স্থানে অস্থায়ী বাঁধ দেওয়া হয়েছিল, যা বৃষ্টির সময় পানি নিষ্কাশনে বাধা সৃষ্টি করে।

তবে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগে দ্রুত এসব বাঁধ অপসারণ করা হয়। ফলে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হয়ে যায় এবং জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটে।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, উন্নয়ন কাজ চলার কারণে সাময়িক সমস্যা হয়েছে। তবে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার কারণে সমস্যা কমানো সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও জানান, কাজ শেষ হলে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা স্থায়ীভাবে কমে যাবে।

তিনি সংশ্লিষ্ট সব বিভাগকে একসাথে কাজ করার নির্দেশ দেন, যাতে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে নগরবাসীকে ভোগান্তিতে না পড়তে হয়।