বাংলাদেশ , বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
সর্বাধিক পঠিত

চট্টগ্রামে এনসিপির চমক ম্লান, আসেননি মনজুর

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ

চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে কয়েকদিন ধরেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলম। গুঞ্জন ছিল, তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-তে যোগ দিতে পারেন। সেই আলোচনা ঘিরেই চট্টগ্রাম মহানগরে আয়োজিত হয় বড় ধরনের যোগদান অনুষ্ঠান। তবে শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত না হয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিলেন সাবেক এই মেয়র।

বৃহস্পতিবার নগরীর চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের জুলাই গণঅভ্যুত্থান হলে অনুষ্ঠিত হয় এনসিপির যোগদান অনুষ্ঠান। এতে দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এনসিপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম সুজা উদ্দীন। প্রধান অতিথি ছিলেন দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন হাসনাত আবদুল্লাহ।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, মনজুর আলমকে এনসিপির বড় রাজনৈতিক সংযোজন হিসেবে দেখানোর পরিকল্পনা ছিল। এমনকি তাকে চট্টগ্রাম মহানগর শাখার আহ্বায়ক করা এবং ভবিষ্যতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী করার বিষয়েও আলোচনা চলছিল বলে জানা গেছে।

মূলত গত ১৪ এপ্রিল উত্তর কাট্টলীতে মনজুর আলমের বাসভবনে হাসনাত আবদুল্লাহর সৌজন্য সাক্ষাতের পর থেকেই আলোচনা শুরু হয়। সেই বৈঠকের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে ধারণা তৈরি হয় যে, মনজুর আলম নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে এনসিপির সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন।

অনুষ্ঠানের আগের দিন এনসিপির নেতারাও বিষয়টিকে ‘চমক’ হিসেবে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠানে মনজুর আলম উপস্থিত না হওয়ায় সেই প্রত্যাশা ভেস্তে যায়।

পরিবারের একটি সূত্র জানায়, বিভিন্ন মহলের চাপ ও অতিরিক্ত কৌতূহলের কারণে তিনি বিরক্ত ছিলেন। কয়েকদিন ধরে তার মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। পরিবারের দাবি, তিনি নতুন কোনো রাজনৈতিক দলে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে আগ্রহী নন।

এ বিষয়ে মনজুর আলম বলেন, “আমার বয়স হয়েছে, শরীরও ভালো না। নতুন করে আর রাজনীতিতে জড়াতে চাই না।”

অন্যদিকে, এনসিপির নেতারা দাবি করেছেন, মনজুর আলমের যোগদান নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হয়নি। দলের যুগ্ম-সমন্বয়কারী জসিম উদ্দিন ওপেল বলেন, “তিনি এনসিপিতে যোগ দেবেন বা মেয়র নির্বাচন করবেন—এমন কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।”

তবে দলটির দাবি, অনুষ্ঠানে চিকিৎসক, প্রকৌশলী, ব্যবসায়ী, সাংস্কৃতিক কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় দেড় হাজার মানুষ এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে এনসিপির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন বলে জানানো হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চট্টগ্রামের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন প্রভাব রাখা মনজুর আলমকে ঘিরে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তার অনুপস্থিতি এনসিপির জন্য কিছুটা অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে আলোচিত এই এনসিপির যোগদান অনুষ্ঠান শেষ পর্যন্ত প্রত্যাশিত ‘বড় চমক’ দেখাতে পারেনি।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক সম্পর্কিত তথ্য
আপডেটের সময় : ১১:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬
৩৩ সময় দৃশ্য

চট্টগ্রামে এনসিপির চমক ম্লান, আসেননি মনজুর

আপডেটের সময় : ১১:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ

চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে কয়েকদিন ধরেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলম। গুঞ্জন ছিল, তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-তে যোগ দিতে পারেন। সেই আলোচনা ঘিরেই চট্টগ্রাম মহানগরে আয়োজিত হয় বড় ধরনের যোগদান অনুষ্ঠান। তবে শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত না হয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিলেন সাবেক এই মেয়র।

বৃহস্পতিবার নগরীর চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের জুলাই গণঅভ্যুত্থান হলে অনুষ্ঠিত হয় এনসিপির যোগদান অনুষ্ঠান। এতে দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এনসিপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম সুজা উদ্দীন। প্রধান অতিথি ছিলেন দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন হাসনাত আবদুল্লাহ।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, মনজুর আলমকে এনসিপির বড় রাজনৈতিক সংযোজন হিসেবে দেখানোর পরিকল্পনা ছিল। এমনকি তাকে চট্টগ্রাম মহানগর শাখার আহ্বায়ক করা এবং ভবিষ্যতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী করার বিষয়েও আলোচনা চলছিল বলে জানা গেছে।

মূলত গত ১৪ এপ্রিল উত্তর কাট্টলীতে মনজুর আলমের বাসভবনে হাসনাত আবদুল্লাহর সৌজন্য সাক্ষাতের পর থেকেই আলোচনা শুরু হয়। সেই বৈঠকের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে ধারণা তৈরি হয় যে, মনজুর আলম নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে এনসিপির সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন।

অনুষ্ঠানের আগের দিন এনসিপির নেতারাও বিষয়টিকে ‘চমক’ হিসেবে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠানে মনজুর আলম উপস্থিত না হওয়ায় সেই প্রত্যাশা ভেস্তে যায়।

পরিবারের একটি সূত্র জানায়, বিভিন্ন মহলের চাপ ও অতিরিক্ত কৌতূহলের কারণে তিনি বিরক্ত ছিলেন। কয়েকদিন ধরে তার মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। পরিবারের দাবি, তিনি নতুন কোনো রাজনৈতিক দলে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে আগ্রহী নন।

এ বিষয়ে মনজুর আলম বলেন, “আমার বয়স হয়েছে, শরীরও ভালো না। নতুন করে আর রাজনীতিতে জড়াতে চাই না।”

অন্যদিকে, এনসিপির নেতারা দাবি করেছেন, মনজুর আলমের যোগদান নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হয়নি। দলের যুগ্ম-সমন্বয়কারী জসিম উদ্দিন ওপেল বলেন, “তিনি এনসিপিতে যোগ দেবেন বা মেয়র নির্বাচন করবেন—এমন কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।”

তবে দলটির দাবি, অনুষ্ঠানে চিকিৎসক, প্রকৌশলী, ব্যবসায়ী, সাংস্কৃতিক কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় দেড় হাজার মানুষ এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে এনসিপির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন বলে জানানো হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চট্টগ্রামের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন প্রভাব রাখা মনজুর আলমকে ঘিরে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তার অনুপস্থিতি এনসিপির জন্য কিছুটা অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে আলোচিত এই এনসিপির যোগদান অনুষ্ঠান শেষ পর্যন্ত প্রত্যাশিত ‘বড় চমক’ দেখাতে পারেনি।