চট্টগ্রামে জব্বারের বলিখেলা ও বৈশাখী মেলা: হরেক পণ্যের সমাহার

চট্টগ্রাম নগরে আবারও শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলিখেলা ও বৈশাখী মেলা চট্টগ্রাম। এই মেলাকে ঘিরে পুরো শহরে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। আন্দরকিল্লা থেকে লালদীঘি পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী দোকানপাট। হাজারো মানুষ কেনাকাটা ও ঘুরে দেখার জন্য ভিড় করছেন।
২৪ এপ্রিল শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়া এই শতবর্ষী মেলায় খাট, পালং, আলমারি, থালা-বাসন, ঝাড়ু, দা-বঁটি, ছুরি, খেলনা, কাপড়সহ নানা ধরনের পণ্য বিক্রি হচ্ছে। অনেক পণ্যের দাম তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি।
মেলায় শুধু কেনাবেচা নয়, রয়েছে লোকজ সংস্কৃতির ছোঁয়া। বাঁশি, একতারা, দোতারা, ডুগডুগির মতো বাদ্যযন্ত্র বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন দোকানে। বিক্রেতারা নিজেরাই গান বাজিয়ে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছেন। এতে মেলার পরিবেশ আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।
শিশুদের জন্য এই মেলা একটি বড় আকর্ষণ। রঙিন খেলনা, দোলনা, ঘুড়ি, প্লাস্টিকের গাড়ি দেখে তারা খুব আনন্দিত হচ্ছে। অনেক শিশু অভিভাবকদের কাছে খেলনা কেনার বায়না ধরছে।
এই মেলা দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ছোট ব্যবসায়ীদের জীবিকার বড় উৎস। অনেক বিক্রেতা বলেন, বছরের বড় অংশের আয় তারা এই কয়েক দিনের মেলা থেকেই করেন।
আজ শনিবার লালদীঘি ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে মূল আকর্ষণ জব্বারের বলিখেলা। এবার অংশ নিচ্ছেন ১০৮ জন বলী। হাজারো দর্শক এই ঐতিহ্যবাহী কুস্তি প্রতিযোগিতা দেখতে ভিড় করবেন।
ইতিহাস অনুযায়ী, ১৯০৯ সালে আবদুল জব্বার সওদাগর এই বলিখেলার সূচনা করেন। উদ্দেশ্য ছিল তরুণদের শারীরিকভাবে শক্তিশালী করে গড়ে তোলা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি চট্টগ্রামের অন্যতম বড় সাংস্কৃতিক উৎসবে পরিণত হয়েছে।
আজকের দিনে এই মেলা শুধু কেনাবেচার জায়গা নয়, এটি একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মিলনমেলা। আধুনিকতা আর ঐতিহ্যের মিশেলে এটি এখন চট্টগ্রামের অন্যতম প্রধান উৎসব।








